ইতিকাফের গুরুত্ব, উপকারিতা ও মাসায়েল

মাহে রমজানে ইতিকাফ করা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। রমজানের পূর্ণ বরকত ও শবে কদরের ফজিলত ও বরকত লাভ করার ক্ষেত্রে ইতিকাফের গুরুত্ব অপরিসীম। ইতিকাফে বসার অর্থ হচ্ছে, ক্ষমার জন্য মহান প্রভুর দরবারে বসে পড়া।বিশ্বনবী সা. মাদানি জীবনের সকল বছর ইতিকাফ করেছেন।জিহাদের সফরের কারণে এক বছরে ইতিকাফ করতে পারেননি। তবে পরবর্তী বছর ২০ দিন ইতিকাফ করে তা পূরণ করে দিয়েছেন। ইতিকাফের রয়েছে অনেক ফজিলত। যেমন, হাদিস শরিফে এসেছে, যদিও হাদিসটি দুর্বল তথাপি ফজিলতের ক্ষেত্রে দুর্বল হদিস গ্রহণযোগ্য যেমন,قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: مَنْ اعْتَكَفَ عَشْرًا فِي رَمَضَانَ كَانَ كَحَجَّتَيْنِ وَعُمْرَتَيْنِ অর্থ: যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করবে সে দুটি হজ এবং দুটি উমরার সওয়াব পাবে। (শুআবুল ঈমান, আল মাতজার, হাদিস-৭৫০) ইতিকাফের উপকারিতা ইতিকাফের অনেক উপকারিতা রয়েছে। সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো ইতিকাফকারী অবশ্যই শবে কদর প্রাপ্ত হবে,ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে। যেমন একটি হাদিসে এসেছে, هُوَ يَعْكُفُ الذُّنُوبَ، وَيُجْرَى لَهُ مِنَ الْحَسَنَاتِ كَعَامِلِ الْحَسَنَاتِ كُلِّهَا অর্থ: ইতিকাফকারী ব্যক্তি গুনাহ থেকে নিজেকে বিরত রাখে, এবং তার জন্য সব নেক কাজকারী মানুষের মতো সওয়াব জারি করা হয়। (সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস নং ১৭৮১) আরও পড়ুন: আজ ঐতিহাসিক বদর দিবস ইতিকাফের কয়েকটি জরুরি মাসআলা এক. পুরুষদের জন্য রমজানের শেষ দশকে মসজিদে ইতিকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদাহ আলাল কিফায়াহ। অর্থাৎ কেউ না করলে সকলে গুনাহগার হবেন। আর নারীরা নিজ ঘরে নির্দিষ্ট স্থানে ইতিকাফ করতে পারবেন। দুই. ইতিকাফকারী সব সময় মসজিদের সীমার ভিতরে থাকবেন। শরয়ী কারণ ছাড়া বাইরে গেলে ইতিকাফ ভেংগে যাবে। তিন. মসজিদ নির্মাতাগণ যতটুকু অংশকে মসজিদ হিসাবে নির্ধারণ করেছেন ততটুকুই মসজিদ। তাই অজুখানা,ইস্তিঞ্জাখানা, জানাযার নামাজের জায়গা, ইমাম, খতীব সাহেবের কক্ষ, মসজিদের মালপত্র রাখার স্থান ইত্যাদি কোনটিই মসজিদ নয়। চার. সিঁড়ি যদি মসজিদের ভিতর দিয়ে হয় তাহলে মসজিদের অংশ। তাহলে ইতিকাফকারী সিঁড়িতে যেতে পারবেন ইতিকাফ নষ্ট হবে না।আর যদি সিঁড়ি বাহির দিয়ে হয় তাহলে বাইরের অংশ। ইতিকাফকারী সেখানে যেতে পারবেন না। শরিয়ত সমর্থিত কারণ ছাড়া সেখানে গেলে এতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে।পাঁচ. সকল মসজিদের মেহরাব মসজিদেরই অংশ। তাই ইতিকাফকারীরা মেহেরাবে যেতে পারবে। ছয়. ২০শে রমজান সুর্যাস্ত থেকে ঈদের চাঁদ দেখা পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করতে হবে। ইতিকাফে বসার পূর্বে ইতিকাফের মাসআলা মাসায়েল ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। সাত. সুতরাং যারা যেই মসজিদে ইতিকাফ করবে তাদেরকে মসজিদের সীমানা সম্পর্কে নির্মাতাদের কাছ থেকে কিংবা মসজিদ কমিটির কাছ থেকে ভালো করে জেনে নিতে হবে। কেননা মসজিদের সীমানা থেকে বের হলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। লেখক: শিক্ষক, জামিয়া কোরবানি আরাবিয়া লালবাগ ঢাকা, খতিব, আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ, পরিচালক, দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ