সেহরি খাওয়ার সওয়াব

রোজার মাস অত্যন্ত বরকতময়। উক্ত মাসের প্রতিটি আমলে রয়েছে অনেক অনেক পূন্য। রোজার প্রস্তুতি হিসেবে সেহরি খাওয়া একটি জরুরী বিষয়। যা একান্তই আমাদের প্রয়োজন। কিন্তু দয়াময় আল্লাহ তাআলা এতেও রেখেছেন অনেক অনেক সওয়াব ও বরকত।যেমন এক হাদিস শরিফে এসেছে, تَسَحَّرُوا؛ فإنَّ في السَّحُورِ بَرَكَةً তোমরা সেহরি খাও, নিশ্চয় তাতে বরকত রয়েছে। (সহিহ বুখারি,১৯২৩) অপর এক হাদিসে এসেছে, إنَّ اللهَ وملائكتَه يُصَلُّونَ على المتسحِّرينَ নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা সেহরি ভক্ষণকারীদের উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফিরিস্তারা তাদের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করেন। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস,১১৩৯৬) উক্ত হাদিস সমূহ দ্বারা বোঝা যায় সেহরি খাওয়া অনেক বরকতময় কাজ। তাই আমরা সকলেই সেহরি খাওয়ার চেষ্টা করব। পেট ভরে খাওয়া কোন জরুরি বিষয় নয়,ক্ষুধা না থাকলেও অল্প একটু দুধ অথবা দুই একটি খেজুর অথবা কিছু একটা হলেও খাওয়া উচিত। তাহলেই এই সওয়াব পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ। আরও পড়ুন: আজ ঐতিহাসিক বদর দিবস একটি জরুরি মাসআলাসুবহে সাদিক পর্যন্ত সেহরি খাওয়া যায়। আর বর্তমানে ক্যালেন্ডারে কোন সতর্কতামূলক সময় দেখানো হয় না। তাই নির্দিষ্ট সময়ে সেহরি খাওয়া শেষ করতে হবে। ফজরের আজান সতর্কতা বশত সুবহে সাদিক হওয়ার ২/৩  মিনিট পর দেওয়া হয়। তাই ফজরের আজান পর্যন্ত সেহরি খেলে রোজা বিশুদ্ধ হবে না। সেহরির সময় দোয়া কবুল হয়রমজান মাস পুরোটাই দোয়া কবুলের মাস। বিশেষত সেহরির সময় দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা কবুল করে থাকেন। কেননা, হাদিস শরিফে এসেছে, قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ الدُّعَاءِ أَسْمَعُ قَالَ ‏"‏ جَوْفُ اللَّيْلِ الآخِرُ وَدُبُرَ الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ নবীজি সা. কে জিজ্ঞেস করা হল, কোন (সময়ের) দোয়া বেশি কবুল করা হয়? তিনি বললেন, শেষ রাতের মাঝের অংশে এবং ফরজ নামাজের পরে। (তিরমিজি, হাদিস-৩৪৯৯) সুতরাং সেহরির সময়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ আমরা খাওয়ার আগে অথবা খাওয়ার পরে আজানের পূর্বে দুই চার রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ে কান্না করে দোয়া করলে শুধু নিজের নয় বরং জাতির ভাগ্যও পরিবর্তন হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। তাই আসুন সেহরির সময়টি নষ্ট না করে আমরা দোয়া কান্নাকাটি তাহাজ্জুদ জিকির আজকারসহ অন্যান্য ইবাদতে মশগুল থাকি। আল্লাহ তাআলা তাওফিক দান করেন,আমিন। লেখক: সিনিয়র শিক্ষক, লালবাগ মাদ্রাসা ঢাকা, খতিব, আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ, পরিচালক, দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ