বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে হোটেল ভাড়া ও টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া

ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উন্মাদনা। স্বাগতিক ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার শিরোপা লড়াইয়ের আগে কালোবাজারে টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ম্যাচকে ঘিরে আহমেদাবাদের হোটেল ভাড়াও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।রোববার ( ৮ মার্চ) আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়ামটিতে এক লাখের বেশি দর্শক উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কিন্তু বিপুল চাহিদার কারণে সরকারি দামে টিকিট পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আয়োজকদের নির্ধারিত মূল্যে টিকিটের দাম শুরু হয়েছিল ২ হাজার ভারতীয় রুপি (প্রায় ২২ ডলার) থেকে। অনলাইন টিকিট প্ল্যাটফর্ম বুকমাইশোতে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়। এরপরই অনেক সমর্থক বাধ্য হয়ে কালোবাজার বা অনানুষ্ঠানিক পথে টিকিট সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যেসব টিকিটের আসল মূল্য ছিল ৩ হাজার ৫০০ রুপি, সেগুলো ম্যাচের আগের দিন কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছিল প্রায় ৫৪ হাজার রুপিতে, যা মূল দামের প্রায় ১৫ গুণ বেশি। মুম্বাইয়ের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অপেক্ষমান তালিকায় সুযোগ না পাওয়ায় তিনি ৩ হাজার রুপির টিকিট কিনেছেন ৩৫ হাজার রুপিতে। তার ভাষায়, ‘টিকিট কেনাবেচার জন্য আলাদা কিছু হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে। সেখানে শুধু সিরিয়াস ক্রেতাদেরই যোগ করা হয়। অগ্রিম টাকা দিয়েই সব লেনদেন করতে হয়, যাতে কেউ শেষ মুহূর্তে সরে না যায়।’ স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর, অতিরিক্ত দামে টিকিট বিক্রির অভিযোগে আহমেদাবাদ পুলিশ ইতিমধ্যে একজন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। তবে গুজরাট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (জিসিএ) জানিয়েছে, স্টেডিয়ামের বাইরে টিকিট কেনাবেচা নিয়ে তাদের কোনো তথ্য নেই। জিসিএর সচিব অনিল প্যাটেল রয়টার্সকে বলেন, ‘টিকিট বুকিং শুধু বুকমাইশো অ্যাপের মাধ্যমে করা হয়। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন কোনো ধরনের কাগুজে টিকিট বিক্রি করে না।’ আরও পড়ুন: ‘মানুষ’ বুমরাহর খারাপ দিনের অপেক্ষায় ফিলিপস এদিকে টিকিটের পাশাপাশি ম্যাচকে ঘিরে আহমেদাবাদের হোটেল ভাড়াও হঠাৎ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। স্টেডিয়ামের আশপাশের প্রায় সব হোটেলই আগেই বুক হয়ে গেছে। মুম্বাই-আহমেদাবাদ মহাসড়ক কিংবা পাশের গান্ধীনগরের বাজেট হোটেলগুলোতে যেখানে সাধারণ সময়ে প্রতি রাতের ভাড়া প্রায় ৪ হাজার রুপি, সেখানে এখন চাওয়া হচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার রুপি। একজন স্থানীয় হোটেল মালিক বলেন, ‘এই সময়টাই আমাদের জন্য সবচেয়ে লাভজনক। ম্যাচ দেখতে প্রচুর মানুষ শহরে আসে, তাই চাহিদা অনেক বেশি।’ আরেকজন হোটেল মালিকের মতে, ভারত ফাইনালে না উঠলে এতটা ভিড় হতো না। টিকিট ও হোটেল ভাড়ার এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সাধারণ সমর্থকদের বড় অংশই বিপাকে পড়েছেন। অনেকে উচ্চমূল্যের কারণে ম্যাচ দেখার সুযোগ হারাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতেও রয়েছেন। আরও পড়ুন: টিম ইন্ডিয়ার ‘হোটেল বদল’: শুধুই নিয়ম নাকি কোনো রহস্যময় ‘কুসংস্কার’? বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম বড় আসরের ফাইনাল ঘিরে উন্মাদনা যেমন তুঙ্গে, তেমনি এই সুযোগে কালোবাজারি ও অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগও আবার সামনে চলে এসেছে।