নানামুখী সংকট থাকা সত্ত্বেও দেশে গাড়ি আমদানি বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ডেলিভারি হয়েছে ৮ হাজার ৭১২টি গাড়ি। আর বিদায়ী ২০২৫ সালে এসেছে ১৪ হাজার ১৬৪টি গাড়ি। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিক্রি তুলনামূলক কম।চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রাম বন্দরে বিশেষায়িত চারটি জাহাজে আমদানি করা ১ হাজার ৬৭১টি গাড়ি খালাস হয়েছে। আর ২০২৫ সালের পুরো বছরে ৩১টি জাহাজে ১৪ হাজার ১৬৪টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গাড়ি আমদানি হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম জানান, এই মুহূর্তে ৪০৯ ইউনিট গাড়ি ৩০ দিনের কম সময় ধরে কারশেডে রয়েছে। এছাড়া ৪১১ ইউনিট গাড়ি ৩০ দিনের বেশি সময় ধরে অবস্থান করছে; আমরা চিঠি দিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের আট মাসে ৮ হাজার ৭১২টি গাড়ির বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারি হওয়া ২ হাজার ৩৬৫টি গাড়ি থেকে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ রাজস্ব আদায় করেছে ৩৫২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, গাড়ি আমদানির সংখ্যা বাড়ার পেছনে মানুষের আয়ের পরিধি ও ভোগের বৃদ্ধিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, যা অর্থনীতির উন্নয়নের ইঙ্গিত বহন করে। আরও পড়ুন: শত শত গাড়ি আমদানি, এত কিনছেন কারা? আগের বছরের একই সময়ে ১ হাজার ২০টি গাড়ি বেশি ডেলিভারি হয়েছে এবং রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৯০ কোটি টাকা। এদিকে, কয়েক মাস আগে চট্টগ্রাম বন্দরে গাড়ির জট থাকলেও এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। তিনটি কারশেডে বর্তমানে ৮২০টি গাড়ি আছে, যার মধ্যে ৪০০টি নিলামের জন্য প্রস্তুত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গাড়ি বিক্রি না হলেও বন্দরের অতিরিক্ত মাশুলের কারণে দ্রুত ডেলিভারি নিতে বাধ্য হচ্ছেন। চট্টগ্রামের ম্যাক্সিম কার সেন্টারের পরিচালক রোকন উদ্দিন বলেন, আমরা কঠিন সময় পার করছি। অতিরিক্ত ওয়ারফেনের কারণে গাড়িগুলো শোরুম বা গোডাউনে রাখার জন্য দ্রুত খালাস নিচ্ছি। তবে সরকার অগ্রাধিকার দিলে বিক্রি বাড়বে। বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ আমরা পজিটিভ দেখছি। নির্বাচন ও ঈদকে সামনে রেখে চাহিদা বাড়তে পারে আশায় গাড়ি আমদানি করে এখন ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে দাবি বারভিডার সাবেক সহ সভাপতি হাবিবুর রহমানের। তিনি বলেন, বেচা-কেনা খুব খারাপ। মানুষের কাছে টাকা নেই। শোরুমের ভাড়াই দিতে পারছি না, তাই গাড়ি বের করে শোরুমে রাখার চেষ্টা করছি, তাতেও কাজ হচ্ছে না। চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়াও মোংলা বন্দরেও বড় পরিমাণ গাড়ি খালাস হচ্ছে। বাংলাদেশে গাড়ি আমদানিতে সিসির প্রকারভেদ অনুযায়ী ৮০০ থেকে সাড়ে ৮০০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।