৫১৯ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যের টানেই হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুরে। উপলক্ষ- দোল পূর্ণিমার মেলা। তবে মেলার প্রধান আকর্ষণ উত্তরবঙ্গের একমাত্র ঘোড়ার হাট। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দোল পূর্ণিমার দিন থেকে শুরু হওয়া এই মেলায় এখন টগবগে ঘোড়াদের দাপট। যুবরাজ, কালামানিক, কিরণমালা, তেহজী, কালাপাহাড় আর ভারতীয় তাজী— বাহারি সব নামের ঘোড়ায় সয়লাব মেলা প্রাঙ্গণ। এসব ঘোড়ার ক্ষিপ্ততা আর বুদ্ধিমত্তা দেখে মুগ্ধ ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। দুলকী চালে বিদ্যুৎগতিতে চোখের পলকে মাঠ পার হওয়া ঘোড়াগুলোর কদরই আলাদা। এবারের মেলার মধ্যমণি হয়ে দাঁড়িয়েছে নওগাঁর ধামইরহাট থেকে আসা ‘যুবরাজ’। ৫ বছর বয়সী এই ভুটানি ঘোড়াটির দাম হাঁকা হয়েছে ১১ লাখ টাকা। মালিক আব্দুল আলীম বলেন, ঘোড়াটি আমি নিজের সন্তানের মতো বড় করেছি। এটি যেমন শান্ত, দৌড়েও তেমন তেজস্বী। অন্যদিকে গাইবান্ধার আমজাদ আলী ব্যাপারী একটি ঘোড়ার দাম হাঁকিয়েছেন ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তিনি বলেন, আরও কয়েকটি ঘোড়া দেখে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। জামালপুর থেকে আসা প্রবীণ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ৪৬ বছর ধরে এই মেলায় আসছেন। এবার তিনি ছোট-বড় ৪৭টি ঘোড়া নিয়ে এসেছেন। আয়োজকরা জানান, মেলার বয়স পাঁচশ বছর ছাড়িয়ে গেলেও এর জৌলুস কমেনি। দেশভাগের আগে এবং স্বাধীনতার পরেও এখানে নেপাল, ভুটান, ভারত এমনকি পাকিস্তান থেকেও উন্নত জাতের ঘোড়া আসত। বর্তমানে সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মালিক ও সওয়ারিরা এখানে জড়ো হন। মাসব্যাপী মেলা চললেও পশুর হাট চলে প্রথম ১০ দিন। ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় ক্রেতাদের ঘোড়া চালিয়ে দেখানোর জন্য প্রয়োজন বিস্তীর্ণ মাঠ। তবে এবার মেলার সীমানা সংকুচিত হওয়ায় ঘোড়া দৌড়ানোর জায়গা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতা ও সওয়ারিদের দাবি, মেলার ঐতিহ্য রক্ষায় বড় পরিসরে মাঠের ব্যবস্থা করা জরুরি। গোপীনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও মেলা কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় মেলা এটি। তবে সামনে রমজান মাস শুরু হওয়ায় এবার সার্কাস ও যাত্রাপালার মতো উচ্চশব্দের বিনোদন বন্ধ রাখা হয়েছে। আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা জানান, বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে পুলিশের পাশাপাশি পর্যাপ্ত আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো বিশৃঙ্খলা রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মাহফুজ রহমান/এফএ/জেআইএম