হলিউড-বলিউডসহ নারীদের নিয়ে আলোচিত সিনেমাগুলো দেখেছেন কি

নারী দিবসের সঙ্গে বিশ্বের নারীদের অধিকার, সংগ্রাম এবং অর্জনের গল্প জড়িয়ে থাকে। এই বিশেষ দিনে শুধু নারীর সম্মানই প্রকাশ পায় না, বরং তাদের ক্ষমতায়ন, সামাজিক অবস্থান ও লৈঙ্গিক সমতার গুরুত্বকেও তুলে ধরা হয়। সিনেমা এমন একটি মাধ্যম যা কেবল বিনোদন দেয় না, বরং নারীর জীবন, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও সাহসকে জীবন্ত করে তোলে। আসুন জেনে নেই হলিউড-বলিউডসহ বিশ্বজুড়ে আলোচিত এমন কিছু সিনেমার কথা, যা নারী দিবসে দেখলে নারীর শক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং সংগ্রামের গল্প নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপলব্ধি করা সম্ভব। হিডেন ফিগার্স (২০১৬)তিনজন আফ্রিকান-আমেরিকান নারী ক্যাথরিন জনসন, ডরোথি ভ্যান এবং মেরি জ্যাকসনের বাস্তব জীবনের সংগ্রাম ও সাফল্য নিয়ে নির্মিত। ১৯৬০-এর দশকে নাসায় তারা বর্ণবৈষম্য ও লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়েছেন। গণিত ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে তাদের অবদান মহাকাশ মিশনের ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।   সাফ্রাজেট (২০১৫)১৯১২ সালের ব্রিটিশ নারীদের ভোটাধিকার আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরা। মড ওয়াট নামে তরুণ লন্ড্রি কর্মী নারীর স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে যুক্ত হয়। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নারীর সংগ্রামের চমৎকার চিত্র।লিটল উইমেন (২০১৯)একটি পরিবারের চার বোন জো, মেগ, বেথ ও অ্যামির জীবন ও স্বপ্নকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। জো (সার্শা রোনান) একজন স্বাধীনচেতা লেখিকা, মেগ (এমা ওয়াটসন) সুখী গৃহিণী হতে চায়। ছবিটি নারীর আত্মনির্ভরতা ও পরিবারের বন্ধনকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে। দ্য কালার পার্পল (১৯৮৫)সেলি হ্যারিসের সংগ্রাম ও জীবনের গল্প। নির্যাতন ও অবমাননার মধ্যে তার আত্মসম্মান ফিরে পাওয়ার যাত্রা, বন্ধুত্ব ও পুনর্মিলনের কাহিনি। নারীর অধিকার ও স্বাধীনতার এক অনবদ্য গল্প। মিসেস আমেরিকা (২০২০)সিরিজটি ১৯৭০-এর দশকের নারীবাদী আন্দোলন ও সমানাধিকার সংশোধনী (ইআরএ) এর লড়াই তুলে ধরে। নারীবাদী নেতাদের এবং প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়া নারীদের গল্প। কাহানি (২০১২)সুজয় ঘোষ পরিচালিত ‘কাহানি’ সিনেমাটি একজন গর্ভবতী নারীকে নিয়ে। এই সিনেমাতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিদ্যা বালান। একজন গর্ভবতী নারী তার স্বামীর খোঁজে কলকাতায় আসেন। একটি অজানা শহরে তাকে নানা রকম সমস্যার মুখোমুখী হতে হয়। চলচ্চিত্রটি নারীদের শক্তি এবং ক্ষমতার একটি আবেগপূর্ণ বর্ণনা। ‘কাহানি’ সিনেমাটি ৬০তম জাতীয় চলচ্চতিত্র পুরস্কারে সেরা চিত্রনাট্য, সেরা সম্পাদনা এবং একটি বিশেষ জুরি পুরস্কার সহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার জিতেছে। ‘কাহানি’ ছবিতে বিদ্যা বালান ও পরমব্রত লাপাত্তা লেডিজ (২০২৩)ভারতীয় সিনেমা। গ্রামের নববধূ ফুল কুমারির সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিভ্রান্তিপূর্ণ ঘটনা ও সামাজিক দ্বন্দ্বের গল্প। মিসেস (২০২৫)একজন শিক্ষিত নৃত্যশিল্পীর জীবন, যে পিতৃতান্ত্রিক পরিবারের শোষণ ও বৈষম্যের মুখোমুখি হয়। স্বপ্ন, স্বাধীনতা ও আবেগকে রক্ষা করার গল্প। কুইন (২০১৩)কঙ্গনা রানাউত অভিনীত এই সিনেমাটি বলিউডের সুপারহিট সিনেমাগুলোর মধ্যে একটি। সিনেমাতে একটি মেয়ে স্বামী ছাড়াই পাড়ি দেয় প্যারিসে, একক হানিমুনে। সিনেমাটিতে একটি নারীর আত্নবিশাস এবং দৃঢ়তা দেখানো হয়েছে। থাপ্পড় (২০২০)অমৃতা (তাপসী পান্নু) সমাজের লিঙ্গবৈষম্য ও সম্পর্কের জটিলতাকে চ্যালেঞ্জ করেন। আত্মসম্মান ও স্বাধীনতার প্রতীকী গল্প। মেরি কম (২০১৪)ভারতের কিংবদন্তি বক্সার মেরী কমের জীবনসংগ্রামের গল্প। লিঙ্গবৈষম্য, দারিদ্র্য ও সমাজের বাধা অতিক্রম করে বিশ্বজয়ী হওয়ার গল্প। মম (২০১৭)শ্রীদেবী অভিনীত আরও একটি হিট সিনেমা মম। কিশোরী কন্যার জঘন্য যৌন নির্যাতনের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য একজন মায়ের দুঃখজনক ভূমিকাটি দুর্দান্তভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে এই সিনেমাতে। শ্রীদেবীর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছিল এই সিনেমায়।ইংলিশ ভিংলিশ (২০১২)বলিউডের প্রয়াত নায়িকা শ্রীদেবীর কামব্যাক সিনেমা ছিল ইংলিশ ভিংলিশ। এই সিনেমাতে একজন মধ্যবিত্ত গৃহবধূর ভূমিকায় অভিনয় করেন শ্রীদেবী। যিনি নিউইয়র্ক শহরে গিয়ে ভাষাগত জটিলতার সমস্যায় পড়েছিলেন। এরপর ইংরেজি ভাষা শেখার ক্লাসে ভর্তি হন তিনি। জীবনে হতাশ হয়ে থাকলে একবার হলেও সিনেমাটি দেখুন। এই সিনেমায় শ্রীদেবীর অভিনয় প্রশংসিত এবং সমাদৃত হয়েছিল।‘ইংলিশ ভিংলিশ’ সিনেমায় শ্রীদেবী মারদানি (২০১৪)এটি একটি অ্যাকশন-থ্রিলার সিনেমা। নায়িকা রানী মুখার্জী পুলিশ মহিলা শিবানী শিবাজি রায়ের চরিত্রে দেখা গিয়েছে এই সিনেমাতে। মাফিয়া আর মানব পাচার নিয়ে একটি রোমাঞ্চকর গল্প নিয়ে তৈরি এই সিনেমাটি। চলচ্চিত্রটি একজন শক্তিশালী মহিলা পুলিশ অফিসারকে চিত্রিত করার জন্য প্রশংসিত হয়েছিল। মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে (২০২৩)ভারতীয় বাঙালি মা দেবিকা চ্যাটার্জির নরওয়েতে সন্তানদের নিয়ে সংগ্রামের গল্প। মাতৃত্বের শক্তি, সাহস এবং সাংস্কৃতিক সংঘাতের গল্প। এই সিনেমাগুলো নারী দিবসে দেখলে নারীর শক্তি, সাহস, সংগ্রাম ও স্বপ্নকে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব। নারীর গল্প কেবল আবেগ বা ভালোবাসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আত্মপরিচয়, প্রতিবাদ ও সংগ্রামের এক শক্তিশালী ভাষা হয়ে দাঁড়ায়।   এলআইএ