ডিসি সারোয়ার আলমের বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি চান আদালত

সিলেটে ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলন চলাকালে তাজউদ্দিন নামে এক যুবক নিহতের ঘটনায় করা হত্যা মামলার তদন্তে অসহযোগিতা এবং আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে সিলেটের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলমের বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি চেয়েছেন আদালত। রোববার (১ মার্চ) এ বিষয়ে সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ‘আইনি অনুমতি’ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ ১৫ এপ্রিল। আদালতের নথি ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানাধীন ঢাকা দক্ষিণ আঞ্চলিক মহাসড়কে আন্দোলন চলাকালে গুলিতে নিহত হন তাজউদ্দিন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী রুলী বেগম একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার দিন ওই এলাকায় দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নাম এবং কার আদেশে গুলি চালানো হয়েছিল—সেই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। একই সঙ্গে বিজিবির কাছেও ওই দিনের দায়িত্বরত সদস্যদের তালিকা চাওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সদস্যদের তালিকা সরবরাহ করলেও সিলেটের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলম রহস্যজনকভাবে নীরব থাকেন। বারবার সময় দেওয়া সত্ত্বেও তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কাঙ্ক্ষিত তথ্য প্রদান করেননি, যা মামলার তদন্ত কার্যক্রমকে স্থবির করে দেয়। তদন্তে অসহযোগিতার কারণে গত ৮ ফেব্রুয়ারি আদালত ডিসিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং ১ মার্চ ধার্য তারিখেও তিনি নীরব থাকেন। ফলে আদালত ডিসির বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ প্রদান করেন। যেহেতু ডিসি একজন সরকারি কর্মচারী সেহেতু তার বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে আগে সরকার তথা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগে, তাই আদালত সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন মামলার অনুমতি গ্রহণ করে ধার্য তারিখে আদালতকে জানানোর জন্য। পরবর্তী ধার্য তারিখ ১৫ এপ্রিল। এ বিষয়ে সিলেটের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলমের বক্তব্য নিতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সাঁড়া দেননি। আহমেদ জামিল/এফএ/জেআইএম