ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান চায় সৌদি আরব। তবে ইরান যদি তাদের ভূখণ্ড ও জ্বালানি খাতের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে তাহলে রিয়াদও পাল্টা জবাব দেবে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত চারটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানকে রিয়াদ এই বার্তাটি পাঠায় শনিবারের (৭ মার্চ) আগে। পরবর্তীতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে হামলা না হলে, আর পাল্টা হামলা না করার আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে তেহরানের চালানো হামলার জন্য ক্ষমা চান। রয়টার্স জানিয়েছে, এর দুই দিন আগে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে কথা বলেন। সূত্রগুলো বলছে, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। সূত্র জানায়, সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরনের মধ্যস্থতাকে স্বাগত জানায় যা উত্তেজনা কমাতে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। একইসঙ্গে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সৌদি আরব বা অন্য কোনো উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর বিমান হামলা চালানোর জন্য তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়নি। প্রিন্স ফয়সাল সতর্ক করে আরও বলেন, যদি সৌদি ভূখণ্ড বা জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইরানের হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দিতে বাধ্য হতে পারে। একইসঙ্গে, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চলতে থাকলে রিয়াদও পাল্টা হামলা চালাতে পারে। আরও পড়ুন: ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়ে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের হুঁশিয়ারি সূত্রগুলো আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরব তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তবে সৌদি ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কোনো জবাব দেয়নি। এদিকে ইরান যুদ্ধ বন্ধে যেকোনো ধরনের সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য সব নেতাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন তিনি। রয়টার্সের প্রতিবেদন মতে, ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনায় আগ্রহী নন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুদ্ধ তখনই শেষ হতে পারে, যখন তেহরানের আর কার্যকর কোনো সেনাবাহিনী থাকবে না বা ক্ষমতায় কোনো নেতৃত্ব অবশিষ্ট থাকবে না। আরও পড়ুন: ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানকে ভেঙে ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে’ সংঘাতের অষ্টম দিন শনিবার (৭ মার্চ) এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদেরকে ট্রাম্প আরও বলেন, যদি ইরানের সম্ভাব্য সব নেতা নিহত হন এবং দেশটির সামরিক শক্তি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে আলোচনার প্রশ্নই আর থাকবে না। ট্রাম্প বলেন, ‘একসময় এমনও হতে পারে যে ‘আমরা আত্মসমর্পণ করছি’—এটা বলার মতো কেউই আর বেঁচে থাকবে না।’