পদোন্নতি বাণিজ্য, অনিয়ম ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও তিনি এখনও স্বপদে বহাল থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।জুলাই অভ্যুত্থানের বছরে, ২২ অক্টোবর মীর মোফাজ্জল হোসেন আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। এরপর থেকেই বদলি ও কর্মকর্তাদের পদোন্নতি শুরু করেন তিনি। এর প্রেক্ষিতে গত বছরের ৯ আগস্ট তার বিরুদ্ধে পদন্নতিতে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে পদবঞ্চিত কয়েকশ’ কর্মকর্তা ও কর্মচারী জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন। এখানেই শেষ নয়। তালিকা করে মানববন্ধনে অংশ নেয়া কর্মকর্তাদের বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নির্দেশে; অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তারা জানান, আন্দোলনরত কর্মকর্তাদের দূরের দূরের জেলায় বদলি করা হয়েছে। যার বাড়ি ঢাকা, তাকে পাঠানো হয়েছে ভোলা বা পঞ্চগড়ে। আরও পড়ুন: নতুন গভর্নরের নিয়োগ বাতিল চায় টিআইবি ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, জুনিয়র কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে, তাই আমরা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। এরপর থেকে মন্ত্রণালয় আমাদের ডাকা হয়েছে। তারপর থেকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। ব্যাংকের পদোন্নতি কার্যক্রমে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করেছেন। এর ফলে ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতি হয়েছে এবং অনেক যোগ্য কর্মকর্তা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, যা ব্যাংকের জন্য ক্ষতিকর। এ বিষয়ে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একটি কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায় এবং এমডির বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চালানোর সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। তবে অভিযুক্ত মীর মোফাজ্জল হোসেন দাবি করেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। এরপর গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ব্যাংকটির বঞ্চিত কর্মকর্তাদেরকে পদোন্নতির আদেশ দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। তাতেও অগ্রগতি না থাকার নানা কারণ সামনে আনেন এমডি। তিনি জানান, পদোন্নতি নীতিমালা ২০১২-এর ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয়। আরও পড়ুন: পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের কার্যক্রম ফাস্ট ট্র্যাকে আনার নির্দেশ গভর্নরের এমন প্রেক্ষাপটে টিআইবি বলছে, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িতদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নয়তো ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে সুশাসন ফেরানো সম্ভব হবে না। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যদি পদোন্নতিতে যোগ্য কর্মকর্তা বঞ্চিত হন, তবে এটি অনিয়ম। যারা পদোন্নতি পাচ্ছে, তারা কি কোনো লেনদেনের বিনিময়ে পাচ্ছে বা ফেভারিটিজম হচ্ছে কি না-এসব বিষয় খতিয়ে দেখা দরকার। বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সারাদেশে ২৫০টি শাখা রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৮০০। তবে অনেক পদ এখনো ফাঁকা আছে বলে জানান ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা।