উপসাগরীয় দেশগুলোকে ড্রোন সহায়তার বিষয়ে ইউক্রেনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। এক বার্তায় তেহরান বলেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন প্রতিরক্ষা সহায়তা দিয়ে কিয়েভ ‘ইরান কার্ড’ ব্যবহার করে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে সাহায্য নেয়ার চেষ্টা করছে।ইরানি কামিকাজ ড্রোন ঠেকাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে প্রতিরক্ষা সহায়তার বিনিময়ে ইউক্রেন পশ্চিমা অর্থ ও প্রযুক্তি চায়। সেই লক্ষ্যে এরই মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের চারটি দেশে বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। জেলেনস্কি জানান, কিয়েভ থেকে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং জর্ডানের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে, যেখানে তারা ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রদর্শন ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে কোনো যুদ্ধের অংশ নই। এটি কেবল প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা।’ গালফ তথা উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো ইতিমধ্যেই ইরানি শাহেদ ড্রোন মোকাবিলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। ইউক্রেন, যা রাশিয়ার নিয়মিত ড্রোন হামলার মুখোমুখি, তারাও ছোট ড্রোন এবং জ্যামিং সিস্টেম ব্যবহার করে ড্রোন থামানোর প্রযুক্তি তৈরি করেছে। আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন সাহায্যের বিনিময়ে ইউক্রেন অর্থ ও প্রযুক্তি চায়: জেলেনস্কি জেলেনস্কি আরও জানান, ইউক্রেনের ড্রোন প্রতিরক্ষা দক্ষতা ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোও চেয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইউক্রেনের সহায়তা প্রয়োজন নেই। জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, কিয়েভ প্রায় ৩৫–৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় ড্রোন চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কেন তা বাস্তবায়ন হয়নি, তা তিনি নিশ্চিত নন। জেলেনস্কির এমন তৎপরতার প্রেক্ষিতে কঠোর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, ইউক্রেনের এই পদক্ষেপ ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য করে তুলতে পারে। আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন সমর্থন চলে যেতে পারে, শঙ্কা ইউক্রেনের ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে লিখেছেন, ‘ইসরাইলের প্রতি ড্রোন সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে ব্যর্থ ইউক্রেন কার্যত যুদ্ধে জড়িত হয়েছে এবং জাতিসংঘের চার্টার অনুযায়ী এর সমগ্র ভূখণ্ড ইরানের জন্য বৈধ লক্ষ্য হয়ে গেছে।’ তথ্যসূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট ও মানি কন্ট্রোল