নারায়ণগঞ্জ শহরে রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মিজানুর রহমান ও কনস্টেবল আরিফুল ইসলামকে মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে। ঘটনার চার ঘণ্টার মধ্যেই শহরের গলাচিপা ও আশেপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।রোববার (১৫ মার্চ) দিবাগত রাতে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আটককৃতরা হলো-গলাচিপা ঘোড়াপাড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ডি এম অনিক (২৮), গলাচিপা এলাকার হারুন শেখের ছেলে মিস্টার অনিক (২৬) এবং গলাচিপা ডি এন রোড এলাকার সোবহানের ছেলে মো. ফারুক (২২)। তারেক আল মেহেদী জানান, বিকেলে গলাচিপা রেললাইন এলাকায় নিয়মিত টহলের দায়িত্ব পালন করছিলেন রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মিজানুর রহমান ও কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম। তখন তারা গাঁজা সহ হাফিজ ও রমজান নামে দুইজনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তাদের বেধড়ক মারধর করে। আরও পড়ুন: ‘মাদক বিক্রেতাকে’ ধরতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার দুই পুলিশ জিআরপি পুলিশের কাছে অস্ত্র না থাকার কারণে তারা কোনো প্রতিরোধ করতে পারেননি। এ ঘটনায় থানার পুলিশ কাজ করছে। এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার অভিযান চলছে বলেও জানান জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা। ঘটনার বিবরণে বলা হয়, বিকেলে হাফিজ ও রমজানকে সিএনজিতে করে নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মিজানুর রহমান ও কনস্টেবল আরিফ নিয়ে যাচ্ছিলেন। গলাচিপা রেললাইন এলাকায় যাওয়ার সময় তারা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করে এবং চিৎকার করতে থাকে। বিষয়টি দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে হাফিজ ও রমজান নিজেদের নিরপরাধ দাবি করে সাহায্য চায়। পরে স্থানীয়রা দুই ব্যক্তিকে সিএনজি থেকে নামিয়ে রেল লাইনের পাশে একটি কাপড়ের দোকানে নিয়ে যায়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারা। এক পর্যায়ে দুই পুলিশকে অবরুদ্ধ করা হয়। পুলিশ বের হওয়ার চেষ্টা করলে জনতা ‘ভুয়া পুলিশ’ বলে তাদের মারধর শুরু করে। এতে এস আই মিজানুর রহমান ও কনস্টেবল আরিফ গুরুতর আহত হন। পরে তারা দৌড়ে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা দাবি করেন, নিরপরাধ দুই ব্যক্তিকে হয়রানি করার কারণে জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশকে মারধর করেছে। তবে পুলিশ বলছে, গাঁজা সহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করার কারণে তাদের সহযোগীরা হামলা চালিয়ে পুলিশকে আহত করেছে।