চলমান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। ফলে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে নিরাপদে পার করাতে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এখন পর্যন্ত কেউই তার ডাকে সাড়া দেয়নি।পরমাণু ইস্যুতে কূটনৈতিক আলোচনার মাঝে হঠাৎ করেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ আগ্রাসী হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। যার ফলে যুদ্ধের প্রথমদিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। জবাবে ইসরাইলের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থ লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন এখন আন্তর্জাতিক মিত্রদের সরাসরি সামরিক সহায়তা চাইছে। গত শনিবার (১৪ মার্চ) এক বার্তায় ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন যে, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো তাদের যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে এই নৌপথকে সচল রাখতে ভূমিকা রাখবে। ট্রাম্পের এই আহ্বানের পর বিশ্বের দুই শক্তিধর দেশ চীন ও যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়াও প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে: মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র সরাসরি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য না দিলেও বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির দ্রুত অবসান কামনা করেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সব পক্ষের দায়িত্ব। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে এবং উত্তেজনা প্রশমনে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা মিত্র এবং অংশীদারদের সঙ্গে বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। তবে ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা নতুন করে কোনো যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করবে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি ব্রিটিশ সরকার। আরও পড়ুন: আমরা মজা করার জন্য হলেও আরও কয়েকবার সেখানে আঘাত করতে পারি: ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, সিউল মার্কিন প্রেসিডেন্টের আহ্বানে ‘গভীর মনোযোগ দিয়েছে’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘নিবিড় যোগাযোগ’ অব্যাহত রেখেছে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, কোরীয় নাগরিকদের রক্ষা এবং জ্বালানি পরিবহনের রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপের সম্ভাবনা যাচাই করছে তারা। ট্রাম্পের আহ্বানের প্রতিক্রিয়অয় ফ্রান্স সোজা ‘না’ করে দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে ১০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি নেয়ার খবর পুরোপুরি মিথ্যা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে ফরাসি মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ‘না। বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ পূর্ব ভূমধ্যসাগরেই অবস্থান করছে। ফ্রান্সের অবস্থান অপরিবর্তিত: রক্ষণাত্মক ও সুরক্ষামূলক।’ আরও পড়ুন: নিজের অভিনীত চলচ্চিত্র মনোনীত হলেও অস্কারে যেতে পারছেন না ফিলিস্তিনি অভিনেতা