মাদক-জুয়ার মতো অপরাধ: গাইবান্ধায় চার দিনে তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে চার দিনে গাইবান্ধায় তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সবশেষ রোববার (১৫ মার্চ) পুলিশ লাইনসের কর্মরত পুলিশের নায়েক হাফিজকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।গত শনিবার রাতে তাকে সদরের নশরৎপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নেয় পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ লাইনে রাখা হয়। পরের দিন রোববার সকালে তাকে প্রত্যাহার করা হয় বলে নিশ্চিত করেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম।তিনি বলছেন, নিয়ম অমান্য করে কর্মস্থল পুলিশ লাইনের বাইরে অবস্থান করায় তিনি চাকরি-বিধি অমান্য করেছেন, তাই তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।তবে স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে নায়েক হাফিজ চিহ্নিত মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে ওই বাড়িতে আড্ডা দিতেন। শনিবার রাতে পুলিশের নায়েক হাফিজ ও স্থানীয় ব্যক্তি সাইদুর রহমান কিচুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে কিচু ও হাফিজকে ছেড়ে দেয়া হয়।এর আগে গাইবান্ধা সদর পুলিশ ফাঁড়ির ভেতরে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় গত ১২ মার্চ ফাঁড়ির দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই) বুলবুল ইসলাম ও আখতার হোসেনকে পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। আরও পড়ুন: ‘মাদক বিক্রেতাকে’ ধরার সময় পুলিশকে গণপিটুনি, আটক ৩গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম জানান, ঘটনা দুটি তদন্তে কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ। তিনি বলেন, পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।সম্প্রতি ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, একটি টেবিল ঘিরে কয়েকজন বসে তাস খেলছেন। টেবিলের ওপর  ১০, ২০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। মাঝেমধ্যে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের কাউকে মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে টেবিলে রাখতে এবং জুয়া খেলতে দেখা যায়। সেখানে পুলিশের পোশাক পরা একজনকে দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা যায়।ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে জড়িতদের চিহ্নিত করে ওই দুই এসআইকে গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।এছাড়াও আড়াই মাস আগে দায়িত্বে অবহেলা ও অপেশাদারিত্বের কারণে গাইবান্ধা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাশেমকে পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। সম্প্রতি কাশেমের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আরেকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তোলে।