ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান, ইসরাইলে প্রথমবারের মতো ‘সেজ্জিল’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

ইরান যুদ্ধ শেষ করতে একটি চুক্তি চায় বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় ইরানের কোনো আগ্রহ নেই বলেও দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।স্থানীয় সময় রোববার (১৫ মার্চ) সিবিএস নিউজের ‘ফেস দ্য নেশন’ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা স্থিতিশীল এবং যথেষ্ট শক্তিশালী। আমরা শুধুমাত্র আমাদের জনগণকে রক্ষা করছি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো কারণ আমরা দেখি না, কেন করব আলোচনা? কারণ তাদের সঙ্গে আমরা আগেও আলোচনা করছিলাম কিন্তু হামলার শিকার হয়েছি। মার্কিনিদের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা ভালো নয়।’ এর আগে শনিবার এনবিসি নিউজকে দেয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে কোনো ধরনের চুক্তিতে পৌঁছাতে এখনো প্রস্তুত নন বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তির ক্ষেত্রে তার কাছে কোন শর্তগুলো গ্রহণযোগ্য হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান একটি চুক্তি করতে চায়। কিন্তু আমি এখনই তা করতে চাই না, কারণ চুক্তির শর্তগুলো এখনো যথেষ্ট ভালো নয়।’ তিনি আরও বলেন, যেকোনো চুক্তি হতে হবে ‘অত্যন্ত জোরালো’। আরও পড়ুন: যুদ্ধে ‘বিজয়’ দাবি করায় ট্রাম্পকে উপহাস ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকারের চুক্তির শর্তাবলির বিস্তারিত জানতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে আপনাকে তা বলতে চাই না।’ এদিকে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে প্রথমবারের মতো সেজ্জিল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি করেছে ইরান। রোববার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড-আইআরজিসি বিবৃতিতে জানায়, তারা অপারেশন ট্রু প্রমিজ–চারের ৫৪তম ধাপ বাস্তবায়ন করেছে। এই ধাপে ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সময় সেজ্জিলের পাশাপাশি খেইবার শেকান, গদর, ইমাদ এবং খোররামশাহ ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা হয়। ইরানের দাবি, এই হামলায় ইসরাইলের একাধিক কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এর মধ্যে ছিল সামরিক শিল্প ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো এবং ইসরাইলি সেনাদের সমাবেশস্থল। আইআরজিসির দাবি, হামলাগুলো নির্ভুলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে এবং এগুলো চলমান সংঘাতে ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে। আরও পড়ুন: উপসাগরীয় দেশগুলোকে ড্রোন প্রতিরক্ষা সহায়তা নিয়ে ইউক্রেনকে ইরানের কঠোর বার্তা চার মার্কিন বিমানঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। পাশাপাশি মার্কিন বিমানবাহী রণতরিকে সহায়তাকারীদের লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাহিনীটি। সেইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, সাহস থাকলে যেন যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরে জাহাজ পাঠায়।বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরবেও আক্রমণ চালিয়েছে ইরান। বাগদাদ বিমানবন্দরে ড্রোন ও রকেট হামলা হয়। কুয়েতে বিমানবন্দরেও ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ইরানে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলও। বিমান হামলায় ইরানের হামেদান শহরে পুলিশ ও সামরিক স্থাপনায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুন লাগে আইআরজিসি ও বাসিজ মিলিশিয়ার সদর দফতরেও। লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তেহরানে হামলা চলবে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। ইরানের সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। ইরানে আরও কয়েক হাজার স্থাপনায় আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।