অলিগলি ছাপিয়ে মূল সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপটে বিশৃঙ্খল ঢাকার রাজপথ। যানজটেরও অন্যতম কারণ নিয়ন্ত্রণহীন এই যানবাহন। শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করলেও ব্যর্থ ট্রাফিক বিভাগ। তবে, নীতিমালা ছাড়া এই বাহন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলেই মনে করেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ।ঢাকায় ঠিক কত পরিমাণ অটোরিকশা সড়কে দাপিয়ে বেড়ায়-- এর সঠিক কোনো পরিসংখ্যান না পাওয়া গেলেও এই সংখ্যা অন্তত ২০ লাখের ওপরে। নিয়ন্ত্রণহীন এসব বাহনের যথেচ্ছ ব্যবহারে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি, বাড়ছে ঝুঁকিও। অলিগলি ছাপিয়ে মূল সড়কে উঠে পড়া রিকশা নিয়ন্ত্রণে অনেকটাই অপারগ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। আরও পড়ুন: রাজধানীর বহু সড়কের বড় অংশই হকারদের দখলে, করণীয় কী? ট্রাফিক পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, এসব অটোরিকশা যারা চালান, তারা দক্ষ না। আবার এসব রিকশাও ঠিক না। তবুও হাজার হাজার অটোরিকশা চলছে। আমরা আপাতত কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মূল সড়কে যেন তারা না আসে, সেটি দেখছি। এদিকে, ঢাকার রাস্তা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা তুলে দেয়া প্রায় অসম্ভব বলছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে ও যানজট নিরসনে প্রয়োজন নিয়ন্ত্রণ করা। আর এর জন্য দরকার নিবন্ধন ও সুনির্দিষ্ট ডাটাবেস। আরও পড়ুন: চাঁদাবাজি / গুলিস্তানের বিভিন্ন সড়ক কোটি টাকায় ‘বিক্রি’ করলেন কারা? তবে, একদিকে নেই নিয়ন্ত্রণ; অন্যদিকে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। বিপজ্জনক জেনেও ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য কমানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারও। নীতিমালার অভাবেই সড়কের বিশৃঙ্খলা নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান। তিনি বলেন, অটোরিকশা নিয়ে সব সময় রাজনীতি হয়েছে। বিগত সরকার, এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এটা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়নি। আর এর পেছনেও একটা সিন্ডিকেট দাঁড়িয়ে গেছে। তারাও কিন্তু সড়কে থাকার জন্য ইন্ধন দেবে। কারণ অবৈধ ও অননুমোদিত যানবাহন সড়কে চললে এটাকে ঘিরে চাঁদাবাজির সুযোগ থাকে। নিয়ন্ত্রণ করতে হলে নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে খুব দ্রুত। লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া ও রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি চালু করা গেলে এ খাত হতে পারে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ টাকার রাজস্ব আদায়ের উৎস।