মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দিতে মিত্ররা এগিয়ে না আসায় দেশগুলোকে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।স্থানীয় সময় রোববার (১৫ মার্চ) ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে যেসব দেশ এর সুবিধা ভোগ করে তাদের সহায়তা করা উচিত। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, ইউরোপ ও চীন উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ইরান যুদ্ধে মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে ব্যর্থ হলে ন্যাটোর সামনে ‘খুবই খারাপ ভবিষ্যৎ’ বলে সতর্ক করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মিত্ররা যদি হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে সহায়তা না করে, তবে ন্যাটো একটি খুবই খারাপ ভবিষ্যতের সম্মুখীন হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মিত্রদের সমালোচনা করা ট্রাম্প বলেন, ‘ন্যাটো নামক আমাদের একটি জিনিস আছে।’ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে এই নৌপথকে সচল রাখতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানোর একদিন পর ট্রাম্প এসব কথা বলেন। আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান ট্রাম্পের, সাড়া দিচ্ছে না কেউ ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের অবস্থান নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্যকে হয়তো এক নম্বর মিত্র, সবচেয়ে দীর্ঘদিনের সঙ্গী ইত্যাদি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে, কিন্তু যখন আমি তাদের আসতে বললাম, তারা আসতে চাইল না।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আর যখন আমরা মূলত ইরানের বিপদজনক সক্ষমতা নিশ্চিহ্ন করে দিলাম, তখন তারা বলল, ‘ওহ আচ্ছা আমরা দুটো জাহাজ পাঠাব’, তখন আমি বললাম, ‘আমাদের এই জাহাজগুলো জেতার আগে দরকার, জেতার পরে নয়’। আমি দীর্ঘদিন ধরে বলছি যে ন্যাটো একটি একমুখী রাস্তা।’ আরও পড়ুন: ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান, ইসরাইলে প্রথমবারের মতো ‘সেজ্জিল’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান ফিনান্সিয়াল টাইমসকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তিনি গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি উন্মুক্ত করতে চীন সরকারকে চাপ দেয়ার লক্ষ্যে এই মাসের শেষের দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার নির্ধারিত সম্মেলন পিছিয়ে দিতে পারেন। ট্রাম্পের যুক্তি, যারা এই প্রণালির সুবিধাভোগী, এটা কেবল তাদের জন্যই সমীচীন যে, তারা সেখানে খারাপ কিছু না ঘটা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। তথ্যসূত্র: বিবিসি