ঈদের জামাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান

পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান। প্রতিবারের মতো এবারও ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। এরই মধ্যে ঈদের জামাতের জন্য জাতীয় ঈদগাহ মাঠের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। সেখানে চলছে প্যান্ডেল তৈরির কাজ। মিম্বরে মেহরাব, পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা প্যান্ডেল ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য মনিটরিং প্যান্ডেল। রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বাঁশের খুঁটির ওপর তীরপাল টানানো, লাইট, ফ্যান টানানো ও ঝুলানোর কাজ শেষ পর্যায়ে। এখন মাঠের ভেতরে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ড্রেন। মশা তাড়ানোর জন্য প্যান্ডেলের নিচে মশক নিধন কাজ চলছে। নারীদের জন্য পৃথক গেট তৈরি এখনো বাকি। কর্মরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লাইট ও ফ্যান টানানো শেষ হলে শুরু হবে ভেতরে চট ও কাপড় বিছানোর কাজ। দু-একদিনের মধ্যেই সাজসজ্জার কাজ শেষ হবে। সবশেষ ইমামের মেহেরাবের ধোয়া মোছার পর রং করার কাজ শেষ। এছাড়া মাঠের আশপাশে রং করা এবং ঝাড়ু দেওয়া শেষ হয়েছে। জানা গেছে, মাঠের মধ্যে মিনার ও ইমামের মেহেরাব বরাবর উত্তর থেকে দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত সবচেয়ে উঁচু বাঁশের খাটালসহ (খুঁটির সারি) মোট সাতটি খাটাল বসানো হয়েছে। পুরো মাঠে মোট ১৬টি খাটাল (খুঁটির সারি) বসানো হয়েছে। প্যান্ডেলের কাজে নিয়োজিত শ্রমিক আসাদ জাগো নিউজকে বলেন, প্রতি বছরই আমরা প্যান্ডেল তৈরির কাজে থাকি। রোজার প্রথম দিন থেকে ২৫-২৬ জন শ্রমিক কাজ শুরু করেছি। ধীরে ধীরে শ্রমিক বাড়তে থাকে। ১৫ রমজানের পর শ্রমিক আরো বাড়ানো হয়। প্রায় দেড় শতাধিক শ্রমিক কাজ করে এখন শেষ দিকে আবার শ্রমিক কমানো হয়েছে। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও ঢাকা দক্ষিণ সিটির তত্ত্বাবধানে কাজ চলছে। এবার সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে জাতীয় ঈদগাহের প্যান্ডেল নির্মাণের টেন্ডার পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল হক অ্যান্ড সন্স ও পিআর ইসলাম। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের কাজ শুধু প্যান্ডেল নির্মাণ করা। ২৫ রোজার মধ্যেই আমরা প্যান্ডেল নির্মাণ শেষ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাজ শুরু করছিলাম। কাজও প্রায় শেষ দিকে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাসেল রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এবার জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত হবে। সে লক্ষ্যেই আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত ৮০ শতাংশ কাজ শেষ। ঈদের আগে অন্তত দু-একদিন হাতে রেখে মাঠের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আজ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সার্বিক বিষয়ে পরিদর্শন শেষে সব তথ্য জানানো হবে। জাতীয় ঈদগাহ মাঠসহ আশপাশে প্রায় অর্ধলাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। এর মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজার নারীর জামাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকছে। জাতীয় ঈদগাহ মাঠে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ল পরিষদ, কূটনৈতিক, সচিবসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ঈদ জামাতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ময়দানে ৩৫ হাজার লোকের ধারণক্ষমতা রয়েছে। এর বাইরে আশপাশেও ব্যবস্থা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনে সরকারি কর্মসূচি নির্ধারণের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এফএইচ/এমআরএম