সড়কের কাজ শেষ করে দরপত্র আহ্বান এলজিইডির

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দরপত্র দেওয়ার আগেই পছন্দের ঠিকাদার দিয়ে কাজ করিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী। এতে পরবর্তীতে দরপত্রে অংশ নিয়ে সাড়ে ৯ লাখ টাকার ওই সড়ক সংস্কারের কাজটি পেয়েও করতে পারেননি নির্দিষ্ট ঠিকাদার। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলার হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ৩০ মিটার সড়ক গত বর্ষা মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে তিন মাস আগে উপজেলা প্রকৌশলী সাড়ে ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ওই ৩০ মিটার সড়ক মেরামতের জন্য তার ঘনিষ্ঠ এক ঠিকাদারকে মৌখিকভাবে সম্পন্ন করতে বলেন। উপজেলা প্রকৌশলীর অনুমতি পেয়ে জহুরুল নামের ওই ঠিকাদার কাজ শুরু করেন। এদিকে কাজ প্রায় শেষ হওয়ার পর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ওই সড়কটি মেরামতের জন্য গত দেড় মাস আগে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে অংশ নেন ৩২ জন ঠিকাদার। দরপত্র যাচাই বাছাই শেষে ওই ৩০ মিটার সড়ক মেরামতের কাজ পায় মির্জাপুরের রঞ্জন দত্ত নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ পাওয়ার পর ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ওই সড়কে গিয়ে দেখেন জহুরুল নামের এক ঠিকাদার কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছেন। পরবর্তীতে তিনি কাজ করতে পারেননি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অবগত করলে তারা কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি। পরে কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন জানতে পারেন উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশেই জহুরুল নামের ওই ঠিকাদার কাজটি সম্পন্ন করেছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি মেরামতে ব্যস্ত। দুই স্তরে ইট পাতার কথা থাকলেও তারা এক স্তর করে ইট পেতে (ম্যাকাডাম) করে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, যেভাবে ইট পাতা হচ্ছে, আগামী বর্ষা মৌসুমে আবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঠিকাদার ও কর্মকর্তারা যোগসাজশ করে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে এ কাজ করছেন। দরপত্রে অংশ নিয়ে কাজ পাওয়া ‘রঞ্জন দত্ত’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রঞ্জন দত্ত বলেন, আমি বেশ কয়েকটি শিডিউল কিনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। পরবর্তীতে আমি কাজটি পাই। কিন্তু কাগজে কলমে কাজ পাওয়ার পর সড়কটিতে গিয়ে দেখা যায় কাজটি করে আগেই প্রায় শেষ করে ফেলা হয়েছে। তাই আমি কাজটি করতে পারিনি। মৌখিকভাবে কাজ পাওয়া ঠিকাদার জহুরুল জানান, তাকে অফিস থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। তাই তিনি কাজটি করেছেন। তবে কাজে কোনো প্রকার অনিয়ম হয়নি। আর যে ঠিকাদার অফিসিয়ালভাবে কাজটি পেয়েছেন তার সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজটি করেছেন। এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজন বলেন, ঘটনার পরে আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছিলাম। রাস্তায় চলাচল বন্ধ হওয়ার কারণে জরুরিভাবে আমাদের কাজ করতে হয়েছিল। আমাদের সকল কাজ টেন্ডারের মাধ্যমেই করতে হয়। তিনি আরও বলেন, মৌখিকভাবে জেলা স্যারদের নিদের্শনায় টেন্ডার ছাড়াই স্থানীয় ঠিকাদারকে দিয়ে কাজটি করানো হয়। টেন্ডার ছাড়াই কীভাবে আপনি কাজ করালেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এ ব্যাপারে জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সম্পর্কে জানানোর কথা বলেন। কিন্তু পরবর্তীতে একাধিকবার জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। আব্দুল্লাহ আল নোমান/এফএ/জেআইএম