ধানের খোসার ছাই দিয়ে গবেষণা, আন্তর্জাতিক অনুদান পেলেন চুয়েটের ৪ শিক্ষার্থী

ধানের খোসার ছাই ব্যবহার করে আর্দ্রতা অপসারণকারী যন্ত্র উদ্ভাবনের গবেষণায় আন্তর্জাতিক অনুদান পেয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চার শিক্ষার্থী। আমেরিকান সোসাইটি অব হিটিং, রেফ্রিজারেটিং অ্যান্ড এয়ার-কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ার্স (অ্যাশরেই) এর স্নাতক পর্যায়ের যন্ত্রপাতি অনুদান কর্মসূচির আওতায় চলতি বছরে ২,০৫০ মার্কিন ডলার বরাদ্দ পেয়েছে তাদের এই প্রকল্পটি।'মাল্টি-লেয়ার ফিক্সড-বেড ডেসিক্যান্ট ডিহিউমিডিফায়ার ইউজিং রাইস হাস্ক অ্যাশ' শীর্ষক একটি গবেষণা প্রকল্পে অনুদান পায় তারা। প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সজল চন্দ্র বণিক। গবেষণা দলে রয়েছে চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের চার শিক্ষার্থী। তারা হলেন, অর্ণব সাহা, মো. রেজওয়ানুল আবেদীন তৌফিক, মীর মোস্তফা তাহমিদ এবং অরুণাভ ভট্টাচার্য। এই গবেষণা সম্পর্কে দলের এক সদস্য রেজওয়ানুল আবেদীন জানান, আমাদের এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো ধানের খোসার ছাই ব্যবহার করে একটি বহু-স্তরবিশিষ্ট স্থির বেডের আর্দ্রতা অপসারণকারী যন্ত্র তৈরি করা। অনেক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগারে নির্দিষ্ট মাত্রার আর্দ্রতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আর্দ্রতা কম বা বেশি হলে অনেক সময় পরীক্ষার সঠিক ফলাফল পাওয়া যায় না। এই সমস্যার সমাধানেই আমরা এমন একটি যন্ত্র তৈরি করছি, যা বাতাস থেকে অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণ করে তা একটি নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় নিয়ে আসতে সক্ষম হবে।’ আরও পড়ুন: ঢাকার আইসিইউতে ছড়াচ্ছে ওষুধ প্রতিরোধী ছত্রাক ‘ক্যানডিডা অরিস’: গবেষণা তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত শিল্পকারখানায় এই কাজটি করতে ব্যয়বহুল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। তাই আমরা স্বল্প খরচে এর বিকল্প একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছি।’ এই যন্ত্রের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে জানা যায়, যন্ত্রে আর্দ্র বাতাস প্রবেশ করলে ভেতরের বিশেষ উপাদানের মাধ্যমে জলীয় বাষ্প শুষে নেয়া হয়। ফলে তুলনামূলক শুষ্ক বাতাস নির্গত হয়। আর্দ্রতা শোষণকারী প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ধানের খোসার ছাই। এতে থাকা উচ্চমাত্রার সিলিকা বাতাসের আর্দ্রতা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়। প্রকল্পটির তত্ত্বাবধায়ক যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সজল চন্দ্র বণিক বলেন, আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো অ্যাশরেই এবং চুয়েট এর পক্ষ থেকে এই গ্র‍্যান্ট অর্জন করেছে। এতে আমি গর্বিত। আশা করি, এর পরের ব্যাচ থেকে এই ধারা অব্যাহত থাকবে এবং আরো ভালোভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চুয়েট এবং যন্ত্রকৌশল বিভাগকে তুলে ধরবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’ আরও পড়ুন: চুয়েটে ব্যবহার ছাড়াই অকেজো হওয়ার পথে কোটি টাকার গবেষণা যন্ত্র উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক পেশাদার সংগঠন অ্যাশরেই মূলত হিটিং, ভেন্টিলেশন ও রেফ্রিজারেশন প্রযুক্তির মান নির্ধারণ ও গবেষণার কাজ করে থাকে। তাদের বিশেষ এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ল্যাবভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন করা হয়।