প্রায় দুই সপ্তাহের বিরতির পর তাইওয়ানের চারপাশে আবারও বড় পরিসরে সামরিক বিমান মোতায়েন শুরু করেছে চীন। এই হঠাৎ বিরতি এবং পুনরায় সামরিক সক্রিয়তা নিয়ে তাইপেতে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ২৬টি চীনা সামরিক বিমান শনাক্ত করেছে যেগুলোর বেশিরভাগই তাইওয়ান প্রণালি অঞ্চলে সক্রিয় ছিল। এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি ৩০টি বিমান দেখা গিয়েছিল, যা যৌথ যুদ্ধ প্রস্তুতি টহল হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত কার্যত কোনো চীনা সামরিক বিমান দেখা যায়নি। এরপর বিচ্ছিন্নভাবে অল্প কিছু কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেলেও সাম্প্রতিক এই বড় আকারের উপস্থিতি নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এ বিষয়ে বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে ১৪ মার্চ রাতে চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চেং তে এর সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে। ওই বক্তব্যে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো এবং গণতন্ত্র রক্ষার ওপর জোর দেন। চীনা মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, লাই চিং-তে যেন ভুল হিসাব না করেন, তারা যদি বেপরোয়া পদক্ষেপ নেয়, তাহলে নিজেরাই নিজেদের কবর খুঁড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক বিরতির পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের-এর সম্ভাব্য চীন সফরের আগে কৌশল পুনর্বিন্যাস; অথবা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সেনাবাহিনীতে চলমান শুদ্ধি অভিযান। এদিকে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কো জানিয়েছেন, বিমান চলাচল কমে গেলেও চীনা যুদ্ধজাহাজ এখনো দ্বীপটির আশপাশে অবস্থান করছে, ফলে হুমকি একেবারেই কমেনি। সূত্র: অ্যাসোসিয়েট প্রেস কে এম