গুজবে উত্তরায় রাতভর মার্কেটে হামলা-লুটপাট, পরিস্থিতি এখনো থমথমে

একজন অটোরিকশা চালককে মারধর করে মার্কেটের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর রিকশাচালক ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে রাজধানীর উত্তরার স্কয়ার মার্কেট নামের একটি বাণিজ্যিক ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে রিকশা চালককে মারধর করে শপিংমলের ভেতরে বেঁধে রাখার খবরটি গুজব। এই গুজবকে কেন্দ্র করে কিছু দুষ্কৃতকারী লুটপাটের চেষ্টা করেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এম নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রিকশাচালককে মারধর করে শপিংমলের ভেতরে বেঁধে রাখার খবরটি সম্পূর্ণ গুজব। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও জানান, সংঘর্ষের সময় বিক্ষুব্ধদের হামলায় পুলিশের ছয় সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি, তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এদিকে, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর এখনও মার্কেটটি বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই হামলায় তাদের কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঈদের আগে এমন ঘটনায় তারা চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে রয়েছেন। স্কয়ার মার্কেটের কয়েকজন দোকান মালিক ও সেলসম্যান জানান, একদল লোক মার্কেটের ভেতরে ঢুকে দোকানপাট ভাঙচুর করে এবং টাকা-পয়সা ও দামি পণ্য লুট করে নিয়ে যায়। জানা গেছে, রোববার (১৫ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে শুরু হওয়া ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে রাত প্রায় ৪টা পর্যন্ত। উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের উত্তরা স্কয়ার নামের একটি বাণিজ্যিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভবনের নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে এক রিকশাচালকের বাকবিতণ্ডা হয়, যা পরে মারামারিতে রূপ নেয়। বিষয়টি দ্রুত অন্যান্য রিকশা চালকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা সড়ক অবরোধের পাশাপাশি ভবনে ভাঙচুরের চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ সময় এক পক্ষের সঙ্গে আরেক পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে বিক্ষুব্ধরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আহত রিকশা চালককে ভবনের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। টিটি/এসএনআর