শেষ মুহূর্তে রিচার্লিসনের গোল, লিভারপুলের জয় কেড়ে নিল টটেনহ্যাম

শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় অ্যানফিল্ডে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট তুলে নিয়েছে টটেনহ্যাম হটস্পার। ম্যাচের ৯০ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রিচার্লিসন গোল করে লিভারপুলের বিপক্ষে ১-১ সমতা এনে দেন। এই গোলের মাধ্যমে টটেনহ্যামের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ইগোর টিউডর পাঁচ ম্যাচের মধ্যে প্রথম পয়েন্ট পেলেন। গোল হতেই টেকনিক্যাল এরিয়া থেকে বেরিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে। এই ড্রয়ের মধ্য দিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে এলো লিভারপুল। ৩০ বলে ৪৯ পয়েন্ট লিভারপুলের। ৩০ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে ১৬তম স্থানে রয়েছে টটেনহ্যাম। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বদলি খেলোয়াড় রেনাল্ড কোলো মুয়ানি দুর্দান্তভাবে বল ধরে ডিফেন্ডার ভিরগিল ফন ডাইককে সামলে পাস বাড়ান রিচার্লিসনের দিকে। এরপর ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকে পরাস্ত করে জালে বল পাঠান। এই ড্রয়ের ফলে টটেনহ্যাম অবনমন অঞ্চলের ঠিক উপরে উঠে এসেছে, যদিও তাদের অবস্থান এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেও জয় ধরে রাখতে না পারায় হতাশ হয়েছে লিভারপুল। ম্যাচ শেষে অ্যানফিল্ডে সমর্থকদের দুয়ো শোনা যায়, যা কোচ আরনে স্লাটের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। ম্যাচের ১৮ মিনিটে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার ডোমনিক সবজলাই। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তার ফ্রি-কিক টটেনহামের গোলরক্ষক জিউলেলমো ভিকারিও গুগলিয়েলমো ভিকারিও ঠেকানোর চেষ্টা করলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে সবজলাইয়ের এটি চতুর্থ সরাসরি ফ্রি-কিক গোল। লিভারপুলের ইতিহাসে এক মৌসুমে ফ্রি-কিক থেকে এর চেয়ে বেশি গোল করেছেন কেবল ডেভিড বেকহ্যাম এবং লরেন্ট রবার্ট। ম্যাচজুড়ে ওপেন খেলার সুযোগ খুব বেশি তৈরি করতে পারেনি লিভারপুল। ফলে সমর্থকদের হতাশা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। সেই হতাশা আরও বাড়ে যখন শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরান রিচার্লিসন। লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট এই ম্যাচে কিছু চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তরুণ ফুটবলার রিও এনগুমোহাকে প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগে শুরুর একাদশে সুযোগ দেন এবং ফর্মহীন মোহাম্মদ সালাহকে বেঞ্চে রাখেন। এছাড়া ডান দিকের আক্রমণে খেলান জার্মেই ফ্রিমপংকে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গ্যালাতাসারের বিপক্ষে ম্যাচে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে সালাহ ছাড়াও ইব্রাহিম কোনাতে, মিলোস কেরকেজ এবং হুগো একিতিকে শুরুর একাদশে রাখেননি তিনি। অন্যদিকে চোট ও নিষেধাজ্ঞার কারণে টটেনহামের অবস্থা ছিল আরও কঠিন। তাদের প্রথম পছন্দের দুই সেন্টার-ব্যাকসহ মোট ১২ জন খেলোয়াড় ছিলেন দলের বাইরে। বেঞ্চে রাখা সাতজন বদলি খেলোয়াড়ের মধ্যে মাত্র দু’জন ছিলেন অভিজ্ঞ আউটফিল্ড খেলোয়াড়। তবুও শেষ মুহূর্তে সুযোগ কাজে লাগিয়ে অ্যানফিল্ড থেকে মূল্যবান এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে টটেনহাম। আর গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার লড়াইয়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়ল লিভারপুল। আইএইচএস/