বেশি কোলে নিলে কি শিশুর স্বভাব নষ্ট হয়? যা বলছে গবেষণা

নবজাতক বা কয়েক মাসের শিশুকে অনেক সময়ই দেখা যায় শুধু মায়ের কোলেই থাকতে চাইছে, একটু দূরে রাখলেই কান্না শুরু করে। তখন অনেকেই বলেন - এভাবে কোলে নিলে তো শিশু অভ্যাস করে ফেলবে, আর কারও কাছে যেতে চাইবে না। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, জীবনের প্রথম কয়েক মাসে শিশুর এই আচরণ একেবারেই স্বাভাবিক। বরং এই সময় বাবা-মায়ের স্পর্শ, কণ্ঠ ও উপস্থিতিই শিশুর নিরাপত্তাবোধ গড়ে তোলার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম মাসগুলোতে শিশুর নিরাপত্তার অনুভূতি জন্মের পর শিশুর মস্তিষ্ক দ্রুত বিকাশ লাভ করে। এই সময় সে ধীরে ধীরে পৃথিবীকে চিনতে শেখে। গবেষণা বলছে, প্রায় ৬ থেকে ৭ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুরা নিজের ও মায়ের আলাদা অস্তিত্ব পুরোপুরি বুঝতে পারে না। তাই তারা কাছাকাছি থাকলেই নিরাপদ বোধ করে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড বলছে, অভিভাবকের উত্তর দেওয়া, যত্ন নেওয়া শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কান্নার জবাব দেওয়া কেন জরুরি শিশু যখন কাঁদে, তখন সেটিই তার যোগাযোগের একমাত্র উপায়। এ সময় কোলে নেওয়া, খাওয়ানো বা সান্ত্বনা দেওয়া - এসব প্রতিক্রিয়া শিশুকে শেখায় যে তার প্রয়োজনগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস জানায়, দ্রুত ও স্নেহপূর্ণ প্রতিক্রিয়া শিশুর মধ্যে নিরাপদ সংযুক্তি বা সিকিউর অ্যাটাচমেন্ট গড়ে তুলতে সাহায্য করে। বেশি আদর করলে নষ্ট হয় - এ ধারণা কতটা সত্য অনেকেই মনে করেন, বেশি কোলে নিলে বা কান্না শুনেই সাড়া দিলে শিশু নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু গবেষণা বলছে, প্রথম বছরগুলোতে শিশুকে ‘অতিরিক্ত আদর’ করে নষ্ট করার আশঙ্কা খুবই কম। বরং নিয়মিত স্নেহ, স্পর্শ ও যত্ন শিশুর আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক সম্পর্ক গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য স্নেহপূর্ণ ও সাড়া-দেওয়ার পরিবেশকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে। ভবিষ্যতের আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি শিশুকে কোলে নেওয়া বা তার কান্নার জবাব দেওয়া কেবল তাৎক্ষণিক সান্ত্বনা নয়; এটি ভবিষ্যতের সম্পর্ক ও আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি তৈরি করে। যে শিশু ছোটবেলায় নিরাপদ অনুভব করে, সে বড় হয়ে সাধারণত নতুন মানুষ ও পরিবেশের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারে। শিশু যখন বারবার কোলে আসতে চায়, তখন এটি তার নিরাপত্তা খোঁজার স্বাভাবিক চেষ্টা। সূত্র: হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড, আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এএমপি/এমএস