ডিজেল-এলএনজি ও জেট ফুয়েল নিয়ে আসছে জাহাজ, খালাসে বিশেষ টিম

ঈদের ছুটিতে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঈদের আগে ও পরে ডিজেল, এলএনজি ও জেট ফুয়েল নিয়ে মোট সাতটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার কথা রয়েছে। জ্বালানিসহ বিভিন্ন আমদানি পণ্য দ্রুত খালাস করতে চট্টগ্রাম কাস্টমস বিশেষ টিম গঠন করেছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতা পেলে জ্বালানি সরবরাহে কোনো সংকট হবে না বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।চট্টগ্রাম বন্দর ও বন্দরের বহির্নোঙরে বর্তমানে জ্বালানিবাহী চারটি জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজ থেকে ছোট লাইটার ও মাদার ট্যাংকারে জ্বালানি খালাস করা হচ্ছে। এদিকে ১৭ মার্চ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন এলএনজি নিয়ে ‘প্রাচী’ এবং ২০ মার্চ ৭০ হাজার ৬৭১ মেট্রিক টন এলএনজি নিয়ে ‘সোনানগোল বেঙ্গুইলা’ নামে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছে। তবে ঈদের দীর্ঘ ছুটির মধ্যে দেশের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি জ্বালানি খালাস করা চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, জ্বালানির বিষয়ে বিপিসির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বাংলাদেশে আসা জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং দেয়া হচ্ছে। এছাড়া আউটার অ্যাংকরে পণ্য খালাসের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যে এক লাখ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে চারটি জাহাজ এবং ২০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল নিয়ে আরও একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার কথা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমদানিকৃত জ্বালানি যেন তেল টার্মিনাল থেকে ডিপো এবং সেখান থেকে ভোক্তা পর্যায়ে নির্বিঘ্নে পৌঁছাতে পারে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রীয় তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, জাহাজ থেকে তেল খালাস, সেখান থেকে ডিপো ও টার্মিনালে নেয়া এবং পরে টার্মিনাল থেকে পাম্প ও ভোক্তা পর্যায়ে সরবরাহ-এই পুরো প্রক্রিয়ায় যেন কোনো ধরনের গাফিলতি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আরও পড়ুন: জ্বালানি ও ভোজ্যতেলের সরবরাহ প্রচুর, অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী এদিকে, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে আমদানি ও রফতানিবাহী কনটেইনার ওঠা-নামা এবং গন্তব্যে পৌঁছানো স্বাভাবিক রাখতে ২১টি অফডকে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহের দাবি জানিয়েছে বিকডা। একই সঙ্গে কনটেইনারবাহী লরি, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধও জানিয়েছে তারা। এসব অফডক থেকেই শতভাগ রফতানি পণ্যের জাহাজীকরণ এবং ৬৫ ধরনের আমদানি পণ্য ডেলিভারি দেয়া হয়। বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বিপ্লব বলেন, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এবং বেসরকারি অফডকগুলোতে যে পরিমাণ ডিজেল বা জ্বালানি তেলের প্রয়োজন রয়েছে, সে অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে বেসরকারি অফডকগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারবে না। এতে আমদানি ও রফতানি উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ঈদের ছুটিতে জ্বালানিসহ সব ধরনের আমদানি পণ্য দ্রুত ছাড় করতে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস পাঁচটি বিশেষ টিম গঠন করেছে। তবে অর্থনীতির গতি স্বাভাবিক রাখতে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাও চেয়েছে তারা। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, প্রতিটি স্থানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন এবং নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন। এতে আমদানি ও রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ঈদের দিন মাত্র ছয় ঘণ্টা ছাড়া বাকি পুরো সময় চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ভেড়ানো এবং কনটেইনার ওঠা-নামা স্বাভাবিকভাবে চলবে। দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সঙ্গে বন্দরের পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ব্যাংক, শিপিংসহ অন্তত ২৫টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা সরাসরি জড়িত। এদের কোনো একটি পর্যায়ে সমস্যা তৈরি হলে পুরো বাণিজ্য ব্যবস্থায় সংকট দেখা দিতে পারে। তাই ঈদের ছুটিতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সচল রাখতে সব সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।