পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। এর মধ্যে নারীদের জন্যও আলাদা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন শেষে আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় প্রশাসক নগরবাসীকে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আমি আশা করি এবারের ঈদ আমাদের জীবনে একটি সুন্দর দিন বয়ে আনবে। তাই ঢাকাবাসীকে অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা। তিনি বলেন, আপনারাই দেখছেন, আমাদের হাতে এখনও কিছু সময় আছে। এর মধ্যেই আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুতি শেষ করতে পারবো। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, সেদিন যেন আবহাওয়া ভালো থাকে এবং বৃষ্টি না হয়। আব্দুস সালাম আশা প্রকাশ করে বলেন, ঢাকার অনেক মানুষ ঈদগাহে এসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের নামাজে অংশ নেবেন। ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঈদের তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে। যদি ৩০ রোজা হয়, তাহলে ঈদ হবে ২১ তারিখে; আর যদি ২৯ রোজা হয়, তাহলে ২০ তারিখে। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। তবে বৃষ্টি হলে সময় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি বলেন, গরমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পর্যাপ্ত ফ্যান বসানো হবে। প্যান্ডেল থাকায় আলোর ব্যবস্থাও থাকছে। পাশাপাশি ওজুখানা, খাবার পানির ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত টয়লেটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আব্দুস সালাম বলেন, অনেক বয়স্ক মুসল্লি ঈদের নামাজে অংশ নেন। তাই তাদের কথা বিবেচনায় প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রেখে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং বৃষ্টিনিরোধক সামিয়ানা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পুরো এলাকায় কার্পেট বিছানো হবে, যাতে মুসল্লিরা শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় করতে পারেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঈদগাহ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সার্ভিস সংস্থার সঙ্গে এরইমধ্যে বৈঠক করা হয়েছে। প্রয়োজনে ঈদের আগে আরও একটি সমন্বয় সভা করা হবে। তিনি আরও বলেন, নামাজে অংশ নিতে আসা মুসল্লিদের ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। কোন দিক দিয়ে আসতে হবে এবং কোথায় গাড়ি রাখা যাবে এসব বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগ আগের দিন নির্দেশনা জানিয়ে দেবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ধারালো বা দাহ্য কোনো বস্তু সঙ্গে না আনার জন্য মুসল্লিদের অনুরোধ করা হয়েছে। আব্দুস সালাম বলেন, ফায়ার সার্ভিসসহ সব ধরনের জরুরি সেবা প্রস্তুত থাকবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর স্বৈরাচারমুক্ত পরিবেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে এবারের ঈদ ঢাকাবাসীর জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে আব্দুস সালাম বলেন, বর্তমানে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মোটামুটি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কাজ বাকি আছে, যা মূলত শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ের কাজ। তিনি আরও বলেন, সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাতে অংশ নেন, ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলেন এবং নগরীর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সহযোগিতা করেন। এফএইচ/এসএনআর