খাল খননে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, খাল খননের মধ্য দিয়ে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা হবে। নদী-নালা, খাল-বিল আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে জেলার বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের চর ইসলামপুর এলাকায় বোয়ালিয়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে গণমাধ্যমে তিনি এ কথা বলেন।  পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা নদী দখল করছে বা ময়লা-আবর্জনা ফেলে দূষণ করছে, তাদের দ্রুত উচ্ছেদ করে এগুলোকে সজীব করে তুলতে হবে।' পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘খালগুলো ঠিক থাকলে নৌপথ হিসেবেও এগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হবে।’ অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, ‘নির্বাচনের অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে খাল খননের কাজ শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে আজ ৫৪টি জেলার ৬৩টি খাল খনন করা হচ্ছে।’ তিনি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪০০ খাল চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলো পর্যায়ক্রমে পুনরুদ্ধার করা হবে। আরও পড়ুন: নাজুক অর্থনীতি থেকে সবল অর্থনীতিতে পরিবর্তন করাই আমাদের অঙ্গীকার: জোনায়েদ সাকি দীর্ঘ ১৭ বছর পর খাল খননের উদ্যোগ নেয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। গোয়ালখোলা গ্রামের কৃষক ফজর আলী জানান, দীর্ঘ সময় ধরে খাল খননের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। নির্বাচনের পরপরই দ্রুত সময়ের মধ্যে এমন উদ্যোগ নেয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘এই খালটি খনন করা হলে কয়েক হাজার কৃষক পরিবার উপকৃত হবে এবং অনাবাদি জমিগুলোও আবাদের আওতায় আসবে।’ একই এলাকার কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘খালটি খনন করা হলে এ অঞ্চলে কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।’ তবে খালটি যেন সত্যিকার অর্থেই সঠিকভাবে খনন করা হয়, সেই দাবিও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, ‘খাল, নদী-নালা বা হাটবাজার দখলের ক্ষেত্রে আমরা কোনোভাবেই দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দেব না। সে ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স।’  বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দখলদারিত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সেই দখলদারিত্বের চর্চা আমরা আর বাংলাদেশে দেখতে চাই না। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছে, দখলদার যে দলেরই হোক, তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান জানান, সিএস খতিয়ান মূলে জেলায় ৪০০ খালের তালিকা প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে আনা হবে। দখলদাররা উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ এনে উচ্ছেদ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলব, যাতে আদালত এ বিষয়ে স্থগিতাদেশ না দেন। তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে এবং ভূমিদস্যুরা দমে যাবে।’ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নবনির্বাচিত জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ এবং পৌরসভার মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। জানা গেছে, ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বোয়ালিয়া খালের সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশ খনন করবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে এই খালটি খনন করা হলে অন্তত ৫০০ হেক্টর জমি আবাদের আওতায় আসবে।