উত্তরাঞ্চলে কৃষি নির্ভর শিল্প গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কৃষিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এটাকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে কাজ করছে সরকার।সোমবার (১৬ মার্চ) দেশজুড়ে দিনাজপুরের কাহারোলের সাহাপাড়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনের পর সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক ও কৃষাণিরা ভালো থাকলে পুরো বাংলাদেশ ভালো থাকবে। তাই তাদের কল্যাণে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষকদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য কৃষকের পাশে দাঁড়ানো। শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া ছিলেন কৃষকের বন্ধু। আপনাদের নির্বাচিত বর্তমান বিএনপি সরকারও কৃষকের বন্ধু। আমরা কৃষিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর গড়ে তুলতে চাই। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য স্বনির্ভর দেশ গঠন করা এ কথা জানিয়ে তিনি উত্তরাঞ্চলে কৃষি নির্ভর শিল্প গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর জেলাগুলোর বেকারত্ব দূর করতে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দিনাজপুর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় কৃষিপ্রধান এলাকা। এসব জেলায় কৃষিজাত পণ্য নিয়ে কাজ করা বড় বড় কোম্পানির সঙ্গে এরইমধ্যে কথা হয়েছে। ঈদের পর তাদের নিয়ে বসব। এখানে কী ধরনের কৃষিনির্ভর কলকারখানা করা যায়, যাতে স্থানীয় বেকার যুবক ও নারীদের কর্মসংস্থান হয়, সেই উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করবো।’ বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আজ যে মাসে পাঁচ হাজার টাকা আয় করে, আমরা চাই আগামী দুই-চার বছরের মধ্যে তার আয় যেন দশ হাজার টাকায় পৌঁছায়। এমন পলিসি নিতে চাই, যাতে মানুষের আয় দ্বিগুণ হয়। এটাই শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার রাজনীতি এবং আপনাদের নির্বাচিত বিএনপি সরকারের রাজনীতি।’ আরও পড়ুন: ঢাকা–১৭ আসনে তারেক রহমানের প্রতিনিধি হলেন আবদুর রহমান সানী মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের অর্থনীতিতে চাপ পড়লেও ধীরে ধীরে বিএনপির নির্বাচনী ইশতিহার পূরণে সরকার যেসব অঙ্গীকার করেছে তা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘এ দেশের মানুষ একাত্তরে যুদ্ধ করে স্বাধীন করেছিলেন। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার বিদায় করেছে। শহীদ জিয়ার আমলে খাল খননের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করে বিদেশে রপ্তানি করেছিল। এ দেশের মানুষ এত কিছু করতে পারলে, আপনারাই আগামীর ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবেন।’ তবে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেই মিষ্টি কথায় বিভ্রান্ত করতে চায়। যারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। তারেক রহমান বলেন, আমাদের রাজনীতি হচ্ছে কৃষকের উপকার করা, মা-বোনদের স্বাবলম্বী করা, সাধারণ মানুষের জন্য ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে লেখাপড়া করে মানুষ হতে পারে, সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা।’ ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে বর্তমান সরকারের। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবার খাল খননে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিনাজপুরের সাহাপাড়া খালের মাটি কাটার মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। এতে অংশ নেন নারী-পুরুষসহ কয়েকশ মানুষ। কোদাল হাতে নিজেই খাল খননের উদ্বোধন করেন জনতার প্রধানমন্ত্রী। সাড়ে ৪ দশকেরও বেশি সময় পর বাবার দেখানো পথেই হাঁটলেন ছেলে তারেক রহমান। বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিলো খাল কাটা কর্মসূচি পুনরায় চালু করার; সরকার গঠনের ১ মাসের মাথায় সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু হলো; পাইলট প্রজেক্টের আওতায় প্রথম ৬ মাসে ১২শ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।