গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মাধ্যমেই সরকার জবাবদিহি করতে চায়: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সরকার গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল স্বাধীনতাকে সম্মান করে এবং এর মাধ্যমেই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে চায়। গণমাধ্যম যত বেশি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল থাকবে, সরকার তত বেশি জবাবদিহিতার মধ্যে থাকবে।সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কুতুবপুর স্বনির্ভর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছে যে ওয়াদা দিয়েছি, তা বাস্তবায়ন করতে চাই। আমাদের মধ্যে কোনো দুরভিসন্ধি বা দ্বৈত চরিত্র নেই। আমরা একই কথা বলি, একইভাবে চিন্তা করি এবং সেই অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের বয়স এখনো এক মাস পূর্ণ হয়নি, ভোটারদের আঙুলের কালির দাগও এখনো শুকায়নি। এর মধ্যেই নির্বাচনের সময় দেয়া পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।’ মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি চলছে, কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, ইমামদের ভাতা প্রদান শুরু হয়েছে এবং খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। ঈদের পরপরই সব গণমাধ্যমকে ডেকে সরকারের এই তৎপরতার বিস্তারিত বিবরণ জাতির সামনে তুলে ধরবেন বলেও জানান তিনি। আরও পড়ুন: সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড নিয়ে যে বার্তা দিলেন তথ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে খাল খনন প্রকল্প নিয়ে সতর্ক করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অসৎ ঠিকাদার ও দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তারা যেন সিন্ডিকেট করে খাল খননের নামে অর্থ লোপাট করতে না পারে, সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। খাল খনন প্রকল্প কোনো আয়ের উৎস হতে পারে না। দেশের মালিক জনগণ। জনপ্রতিনিধিরা সেবক আর মন্ত্রীরা জনগণের চাকর। সরকারি কোনো কাজেই আর্থিক অস্বচ্ছতা থাকতে পারবে না।’ ঠিকাদার ও সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের প্রাপ্য সুবিধা সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ ভুল করলে তার খেসারত দিতে হয়, এ বিষয়ে অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাবলি থেকেও শিক্ষা নিতে হবে।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি বিপ্লব এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন কর্মসূচি সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর ফলে স্থানীয় কৃষকরা সেচ সুবিধা পাবেন এবং ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে। এতে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তাও জোরদার হবে।’ আরও পড়ুন: নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংসদে স্বাভাবিক বিতর্কের সুযোগ তৈরি হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী জানা গেছে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪৫ বছর আগে কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে গৌরনদী উপজেলার কুতুবপুর স্বনির্ভর খালটি খনন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটি তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। ফলে শুকনো মৌসুমে খালের আশপাশের প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবার খালটির পুনঃখনন কাজ শুরু হয়েছে। পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের প্রথম পর্যায়ে দুই কিলোমিটার অংশের কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিএডিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাজ শেষ হলে ওই এলাকার প্রায় ৯০০ একর কৃষিজমি সেচ ও পানি নিষ্কাশন সুবিধার আওতায় আসবে। বরিশালের জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বরিশালের নবাগত পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান, বিএডিসি বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী চঞ্চল কুমার মিস্ত্রী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব এবং বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী সাহেদ আহম্মেদ চৌধুরী। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ ওয়াহিদ মুরাদ, গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ছালেহ মো. আনছার উদ্দিনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।