সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আওতাধীন সব সড়ক ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে নগরবাসীর জন্য আধুনিক বিনোদন পার্ক স্থাপন, সুপেয় পানির সমস্যা সমাধান এবং সিলেট থেকে মাদক ও জুয়া চিরতরে নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে সিলেট নগরীর শারদা স্মৃতি ভবনে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিসিকের উদ্যোগে মহানগরের মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের প্রতি সম্মান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তাদের উন্নয়নে সরকার দুটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ব্যক্তিগত খেয়ালখুশির কারণে যাতে ইমামদের চাকরি না হয় কিংবা চাকরি হারাতে না হয়, সে জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি তারা যাতে চার-ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন, সেভাবে সম্মানী নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়া হবে।’ সব উন্নয়ন কাজের স্থানীয় তদারকি কমিটিতে ইমামদের অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানান তিনি, যাতে উন্নয়ন কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয় এবং জনগণের আস্থা বাড়ে। সিসিকের বর্তমান প্রশাসকের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একজনকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছি, যার ওপর দেশের প্রধানমন্ত্রী আস্থাশীল। তার নেতৃত্বে আগামীতে সিলেটে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে।’ সভাপতির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘ইমাম-মুয়াজ্জিনরা যে সম্মানী পান তা অপ্রতুল। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিসিকের পক্ষ থেকে তাদের জন্য সামান্য সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সবার সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ আরও পড়ুন: জ্বালানি ও ভোজ্যতেলের সরবরাহ প্রচুর, অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী নগর উন্নয়নে ইমামদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘আগে সিলেট সিটি করপোরেশনে ছিল ২৭টি ওয়ার্ড, এখন হয়েছে ৪২টি। এত বড় নগরের সব সমস্যা একা সিটি করপোরেশনের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়, যদি না নগরবাসী সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন। আমরা একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগর গড়ে তুলতে চাই। ইমামগণ যদি জুমার খুতবায় নগরবাসীকে সচেতন করেন, তবে আমাদের কাজ অনেক সহজ হবে।’ সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানী ঢাকার পরই সিলেটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি গ্রিন ও ক্লিন সিলেট গড়তে আমাকে উৎসাহ দিচ্ছেন এবং সার্বিক সহযোগিতা করছেন। আশা করি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক সিলেট গড়ে তুলতে পারব।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। অনুষ্ঠানে সিলেট নগরের ৮২৭টি মসজিদের ১ হাজার ৬৪ জন ইমাম ও ১ হাজার ২০১ জন মুয়াজ্জিনের মধ্যে মোট ৩৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানী বিতরণ করা হয়।