হঠাৎ বুক ধড়ফড় করা বা হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। কখনও এটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়, আবার কখনও কয়েক মিনিট পর্যন্ত থাকতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে অনেক সময় পালপিটেশন বলা হয়। সব সময় এটি গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নয়। দুশ্চিন্তা, ভয়, অতিরিক্ত কফি পান বা হঠাৎ শারীরিক পরিশ্রমের কারণেও এমন হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিতও দিতে পারে। তাই হঠাৎ বুক ধড়ফড় করলে কী করা উচিত তা জানা জরুরি। ১. প্রথমে শান্ত থাকার চেষ্টা করুন হৃদস্পন্দন হঠাৎ বেড়ে গেলে অনেকেই ভয় পেয়ে যান। এতে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে। তাই প্রথমে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিলে শরীরের স্নায়ুতন্ত্র শান্ত হতে সাহায্য করে। ২. কিছুক্ষণ বসে বা বিশ্রাম নিন যদি হাঁটা বা কাজ করার সময় বুক ধড়ফড় শুরু হয়, তাহলে কিছুক্ষণ বসে বিশ্রাম নেওয়া ভালো। অনেক সময় অতিরিক্ত শারীরিক চাপের কারণে হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে। ৩. ক্যাফেইন ও উত্তেজক খাবার এড়িয়ে চলুন অতিরিক্ত চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংক অনেক সময় হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিতে পারে। যদি এমন সমস্যা বারবার হয়, তাহলে এসব পানীয় কমিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ৪. পানি পান করুন শরীরে পানির ঘাটতি থাকলেও কখনও কখনও হৃদস্পন্দন দ্রুত হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন যদি বুক ধড়ফড়ের সঙ্গে বুকব্যথা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া যদি এই সমস্যা বারবার হয় বা দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, তাহলে হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। কেন বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া দরকার আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, মাঝে মাঝে পালপিটেশন সাধারণ হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি হৃদ্যন্ত্রের ছন্দের সমস্যা বা অন্যান্য শারীরিক অবস্থার ইঙ্গিত হতে পারে। একইভাবে ন্যাশনাল হার্ট লাং অ্যান্ড ব্লাড ইনস্টিটিউট বলছে, হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন দীর্ঘদিন অবহেলা করলে তা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। হঠাৎ বুক ধড়ফড় করলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে শরীরকে শান্ত করার চেষ্টা করা উচিত। তবে সমস্যা বারবার হলে বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সূত্র: আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল হার্ট লাং অ্যান্ড ব্লাড ইনস্টিটিউট, মায়ো ক্লিনিক, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল এএমপি/এমএস