সরকারি দফতর ও শপিংমলগুলোতে চলছে বিদ্যুৎ অপচয়ের মহোৎসব

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ যখন কঠিন সমস্যায় পড়েছে, তখনও খোদ সরকারি অফিস এবং বাণিজ্যিক শপিংমলগুলোতে বিদ্যুৎ অপচয়ের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। যেন চলছে অপচয়ের মহোৎসব। দিনের আলোয়ও বাতি জ্বলছে এবং খালি কক্ষে ফ্যান ঘুরছে। রাত নামলে সেই অপচয় যেন আলোকসজ্জার নামে আরও দৃঢ় হয়ে উঠছে।সরেজমিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান ভবন ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নীতির মধ্যেই দিনের আলোতেই জ্বলছে সারি সারি লাইট, ঘুরছে ফ্যান। এমনকি ফাঁকা কক্ষেও বিদ্যুৎ অপচয়ের দৃশ্য চোখে পড়ে। একই চিত্র দেখা যায় অন্যান্য সরকারি দফতরেও। অফিস ছুটির পর রাত নামলেও সরকারি দফতরে বিদ্যুৎ অপচয় থামে না। অনেক অফিসে জ্বলতে থাকে অসংখ্য বাতি। বেসরকারি খাতও পিছিয়ে নেই; জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমলে আলোকসজ্জার নামে বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশ টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব যখন ব্যবসায়ী ও অন্যান্য নেতারা ঠিকভাবে পালন করতে ব্যর্থ হন, তখন সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়। আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে ব্যাংকগুলোকে নতুন নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদাহরণ স্থাপন করলেও, রাতের বেলায় সরকারি দফতরের আলোর ঝলকানি সেই উদ্যোগকে অনেকটা ম্লান করে দিয়েছে। প্রশাসনের একাংশের উদাসীনতার কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সেই মহতী উদ্যোগ। পাশাপাশি এই দায়িত্বহীন অপচয় দেশের জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপরও হুমকি সৃষ্টি করছে। সাধারণ মানুষ বলছেন, দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। যদি সরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ অপচয় করে, তাহলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষও যথেষ্ট বিদ্যুৎ পাবে না। শেষ পর্যন্ত যদি নিজেরা শুদ্ধাচরণ না করি এবং নির্দেশনাগুলো ঠিকভাবে অনুসরণ না করি, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর একক নির্দেশনাও কার্যকর হবে না। তাই তার দেখানো পথটা প্রতিটি মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে দেশের সব অফিস ও আদালতে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যুৎ সাশ্রয় এখন জাতীয় অগ্রাধিকার। এই অবস্থায় অপচয় রোধে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অবস্থা খুবই নাজুক এবং চলতি বছর নতুন একটি সংকট দেখা দিয়েছে। তাই শুধু সচেতনতা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজন পদক্ষেপ নেয়া ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া, যা একটি সুসংহত নীতিমালার মধ্যে আনা দরকার।