তিন ফরম্যাটেই ‘সুপার বিগ প্লেয়ার’ হতে পারে তানজিদ: আশরাফুল

তখনও সেভাবে পরিচিতি লাভ করেননি তানজিদ হাসান তামিম। সবেমাত্র অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেন। ২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আগের বছর ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে মোহামেডানের বিপক্ষে বিকেএসপি মাঠে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেছিলেন তানজিদ তামিম। আজকের দিনে টাইগারদের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল তখন মোহামেডানের খেলোয়াড়। মাঠে ফিল্ডিং ও বোলিং করতে করতেই সেদিন ১৮ বছর বয়সী তরুণ তানজিদ তামিমের ব্যাটিং মুগ্ধ চোখে দেখেছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান আশরাফুল। খেলা শেষে তানজিদ তামিমের কাছে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আত্মতুষ্টিতে ভুগবে না। আমি পারি, ব্যাটিংয়ের সব কলাকৌশল আমার জানা, সব শট খেলার সামর্থ্য আমার আছে, টেকনিকও পরিপাটি। এমন চিন্তা মাথায় আনবে না। কঠোর পরিশ্রম করবে, ফিটনেস ঠিক রাখবে। তোমার মধ্যে বারুদ আছে। ঠিকভাবে ডেলিভারি করতে পারলে একদিন তুমি বাংলাদেশের এক নম্বর ওপেনার হবা এবং দেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হয়ে উঠবে। আমার বিশ্বাস, তুমি একদিন জাতীয় দলে খেলবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও সুনাম অর্জন করবে।’ পাকা জহুরী যেমন সোনা, হীরা, জহরত ও মণিমুক্তা চিনতে পারেন তেমনি ব্যাটিংয়ের অসামান্য প্রতিভা মোহাম্মদ আশরাফুলও প্রায় সাত বছর আগেই বুঝতে পেরেছিলেন তানজিদ তামিমের মধ্যে বড় ও দেশসেরা ওপেনার হওয়ার সব গুণাবলি আছে। অবশেষে ধীরেধীরে তা বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। গতকাল ১৫ মার্চ শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন পাকিস্তানি পেস বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ ও ফাহিম আশরাফের প্রচন্ড গতি ও রিভার্স সুইংয়ের বিপক্ষে কি দারুণ ব্যাটিংটাই না করেছেন তানজিদ তামিম। এক কথায় বলা যায়, তিনি একাই পাকিস্তানি বোলিং আক্রমণ সামলেছেন। হাত খুলে খেলে চার ও ছক্কার ফুলঝুরি ছুটিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন। ১০০ স্ট্রাইক রেটে তানজিদ তামিমের ১০৭ রানের ইনিংসটি টাইগার ভক্তদের মনে দারুণভাবে ধরেছে। সবার মুখে এখন এই বাঁহাতি তরুণের প্রশংসা। তার এমন ইনিংসে টিম বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলও মুগ্ধ। তার ভাষায়, তানজিদ তামিম আমাদের জন্য বিশেষ এক প্লেয়ার। তার হাতে সব শট খেলার ক্ষমতা আছে। বড় শট নেওয়ার সহজাত সামর্থ্যও রয়েছে। উইকেট থেকে বেরিয়ে স্টেপ আপ করে নয়, জায়গায় দাঁড়িয়েই বড় বড় ছক্কা মারতে পারে তানজিদ তামিম। তার এই সামর্থ্য আমি টের পেয়েছিলাম সাত বছর আগে বিকেএসপি মাঠে মোহামেডানের বিপক্ষে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরি দেখে। তখনই মনে হয়েছিল এই তরুণ একদিন অনেক বড় হবে। আমার মনে হয় একজন বড় ও বিশ্বমানের ব্যাটারের অনেক গুণই তার মধ্যে রয়েছে। এতদিন সে সেভাবে ডেলিভার করতে পারেনি। এখন কিভাবে ডেলিভার করতে হয়, তা জেনেছে, বুঝেছে এবং পারছেও। আর পারছে বলেই দেখুন—সর্বশেষ বিপিএল ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছে, বিসিএলের ফাইনালেও ৮৮ রানের দারুণ ইনিংস খেলেছে। প্র্যাকটিস ম্যাচেও বড় ইনিংস উপহার দিয়েছে। এখন সে ফর্মের চূড়ায় রয়েছে। তবে কি ফর্মে ও রানে থাকার কারণেই সৌম্য সরকারকে বাইরে রেখে তানজিদ তামিমকে খেলানো হয়েছে? আশরাফুলের ভাষ্য, ধারাবাহিকভাবে ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলছে তামিম। পাশাপাশি আমরা যে প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছি, তাতেও তানজিদ তামিম সবার চেয়ে ভালো ব্যাটিং করেছে। স্বচ্ছন্দ ও সাবলীল ব্যাট চালনায় আমার মনে হয় আমাদের ব্যাটারদের মধ্যে এখন তানজিদ তামিম এক নম্বরে রয়েছে। জাতীয় দলকে অনেক কিছু দেওয়ার ক্ষমতা আছে তার। ফিটনেস লেভেল যদি ঠিক থাকে এবং ভালো খেলার ইচ্ছে, আকাঙ্ক্ষা ও সংকল্প যদি বজায় থাকে, তাহলে আমার মনে হয় তানজিদ তামিম হয়ে উঠতে পারে আমাদের বড় নির্ভরতা। আশরাফুল অনুভব করেন, পাকিস্তানের ফাস্ট বোলাররা এমনিতেই রিভার্স সুইং করাতে পারদর্শী। আর শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হারিস রউফ তো এই কাজে মাস্টার। তাদের বিপক্ষেও তানজিদ তামিম একদম অবলীলায় ব্যাট করেছে। সাহস, আস্থা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিজের মতো করে ফ্রি-স্ট্রোক খেলেই সে শতরান করেছে। তানজিদ তামিম সম্পর্কে আশরাফুলের শেষ কথা—দেখুন, আমি ভবিষ্যদ্বাণী করলাম। যদি অধ্যবসায় ও চেষ্টা থাকে, তাহলে একদিন তানজিদ তামিম তিন ফরম্যাটেই আমাদের ‘সুপার বিগ প্লেয়ার’ হয়ে উঠবে। এআরবি/আইএন