বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় দুই রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় পদক্ষেপ নিয়েছেন আদালত।গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ আমলে নিয়ে সোমবার (১৬ মার্চ) বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কে এম শরিয়াতুল্লাহ স্বপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) হয়ে মামলা দায়েরের আদেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করে আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।গত রোববার শেবাচিম হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিক ভেবে ভুল করে অ্যানেসথেশিয়া ইনজেকশন পুশ করায় মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই রোগীর মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, বছরের পর বছর ধরে চলা অব্যবস্থাপনা ও সিন্ডিকেট চক্রের খামখেয়ালিপনায় সাধারণ মানুষের জীবন আজ সংকটাপন্ন।আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, চিকিৎসার নামে এই ধরনের অবহেলা একটি গুরুতর আইনি লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, একজন অসুস্থ মানুষ চিকিৎসক ও হাসপাতালের ওপর আস্থা রেখে নিজের শরীর সঁপে দেন। সেখানে সামান্য অবহেলাও বিশ্বাসভঙ্গের শামিল। জনস্বার্থে ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে ‘The Code of Criminal Procedure, 1898’-এর ১৯০(১)(গ) ধারা অনুযায়ী আদালত এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। আরও পড়ুন: ঘুষ ছাড়া সেবা মেলে না শেবাচিম হাসপাতালে!অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিচে নন এমন একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়ে আদালত সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় জানতে চেয়েছেন:* ইনজেকশন প্রদানকারী নার্স বা ব্যক্তির যথাযথ ডিগ্রি ও যোগ্যতা ছিল কি না?* অপারেশনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ছিল কি না?* প্রি-অ্যানেসথেসেয়িক চেক-আপসহ নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছিল কি না?* হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো প্রশাসনিক গাফিলতি ছিল কি না?এদিকে, শেবাচিম হাসপাতাল কর্তৃক গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি মাত্র এক কার্যদিবসেই তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর জানিয়েছেন, ‘তদন্তে অপেশাদারিত্ব ও খামখেয়ালিপনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় গুরুদণ্ডের সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।’ আদালতের আইনি উদ্যোগকেও তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।আদালতের এই হস্তক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। নগরীর কাঠপট্টি রোডের বাসিন্দা হোসেন বলেন, ‘শেবাচিমে অপচিকিৎসায় মৃত্যু যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। আদালতের এই মামলা যেন শুধু কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, আমরা প্রকৃত শাস্তি দেখতে চাই।’