ইরানের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে নিজেদের আকাশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। খবর আল জাজিরার।মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিসিএএ) সাময়িকভাবে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত জানায়। আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জিসিএএ আকাশপথের পূর্ণ ও সাময়িক বন্ধের ঘোষণাটি একটি ‘ব্যতিক্রমী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে গ্রহণ করেছে। মূলত ফ্লাইটের যাত্রী, ক্রু এবং আমিরাতের ভূখণ্ডকে সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করতেই এই সিদ্ধান্ত। জিসিএএ জানিয়েছে, নিরাপত্তা ও অপারেশনাল ঝুঁকিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের পর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আকাশপথ বন্ধ করা হয়েছে। আরও পড়ুন: আল জাজিরার বিশ্লেষণ /‘ধ্বংসস্তূপ’ থেকেও উড়ছে মিসাইল: ইরানের অন্তহীন ক্ষেপণাস্ত্রের রহস্য কী? এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, ইরান থেকে নতুন করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধেয়ে আসছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের এই ‘নতুন ঢেউয়ের’ হামলাগুলো মোকাবিলা করছে আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। গত কয়েক দিন ধরে দুবাই ও আবুধাবির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে তেহরান এই আক্রমণ জোরালো করেছে। আকাশপথ বন্ধ হওয়ার ফলে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের শত শত ফ্লাইট বাতিল বা ডাইভার্ট করা হয়েছে। আমিরাতের পতাকাবাহী এমিরেটস ও ইতিহাদ এয়ারওয়েজসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইনসগুলো তাদের কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। এয়ারপোর্টগুলোতে আটকা পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। কর্তৃপক্ষ যাত্রীদেরকে বিমানবন্দরে আসার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। এর আগে গত কয়েক দিনে আমিরাতের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জিসিএএ জোর দিয়ে বলেছে, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তাকেই তারা এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।