রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আবারও আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে শীর্ষ সন্ত্রাসী কিলার বাদল গ্রুপের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ফুটপাতের চাঁদা নিয়ে দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দুইজনকে কুপিয়ে জখম এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খলিলকে কোপানোর ঘটনায় এই গ্রুপের নাম উঠে এসেছে। দুটি ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে কিলার বাদলের অন্যতম সহযোগী মোল্লা কাওসার ও গ্যারেজ সোহেলসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। তবে এখনো অধরা রয়েছে কিলার বাদল। র্যাব জানিয়েছে, আত্মগোপনে থাকা বাদলের একাধিক আস্তানায় অভিযান চালানো হয়েছে।গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ময়ুর ভিলার গলিতে একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খলিল। এ সময় সিএনজিতে করে বোরকা ও পাঞ্জাবি পরা ৩-৪ জন এসে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এর একদিন আগে পাশের রাস্তায় স্থানীয় রাসেল ও মামুনকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। হাতের কোপ নিয়ে জীবন বাঁচাতে দৌড়ে পালান তারা। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ত্রাসীরা মাস্ক পরে ছিল এবং ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ দেয়। পরে আশপাশের লোকজন আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। এমন ঘটনা এখন প্রায় নিয়মিত হয়ে গেছে। আরও পড়ুন: চাঁদাবাজি / গুলিস্তানের বিভিন্ন সড়ক কোটি টাকায় ‘বিক্রি’ করলেন কারা? দুইটি ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা মামলা করেন। এতে মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী কিলার বাদল, তার সহযোগী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ মোল্লা কাওসার, গ্যারেজ সোহেল, কাউয়া রিপন, জাউরা রাব্বি, পাপ্পু, রুবেলসহ অজ্ঞাত ৫-৬ জনের নাম উঠে আসে। এরপর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং শুরু হয় অভিযান। ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে দুই মামলার এজাহারনামীয় আসামি চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ গ্যারেজ সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পটুয়াখালী থেকে গ্রেফতার করা হয় কিলার বাদলের আরেক সহযোগী মোল্লা কাওসারকে। একই সঙ্গে কাউয়া রিপন ও পাপ্পু নামের আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। র্যাব-২ এর অধিনায়ক মো. খালিদুল হক হাওলাদার বলেন, মোহাম্মদপুর তিন রাস্তা এলাকায় ফুটপাতের চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হত্যা চেষ্টা ও কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটে। কেরানীগঞ্জের একটি বাড়ি থেকে বিদেশি পিস্তলসহ এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয় এবং র্যাব বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে। উভয় মামলার এক নম্বর আসামি মোল্লা কাওসারকে পটুয়াখালী থেকে র্যাব-৮ এর সহযোগিতায় গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মোল্লা কাওসারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি হত্যা মামলায় ৫৮ নম্বর আসামি হিসেবে নাম রয়েছে এবং মোহাম্মদপুর থানায় আরও একটি মামলায়ও তিনি ৫৮ নম্বর আসামি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আট-নয়টি হত্যা চেষ্টার মামলা রয়েছে। আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে সমন্বয়ককে কুপিয়ে জখম, চাঁদাবাজ মোল্লা কাউসার গ্রেফতার র্যাব জানিয়েছে, কিলার বাদলের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্যই এসব ঘটনা ঘটেছে। অভিযানের পর থেকেই বাদল আত্মগোপনে রয়েছে। মো. খালিদুল হক হাওলাদার আরও বলেন, মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকায় ৫ আগস্টের পর থেকে সহস্রাধিক কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। ছিনতাই, ভয়ভীতি দেখানো ও দখলদারিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকা থেকে ১০০টির বেশি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকায় সন্ত্রাস দমনে র্যাব কাজ করছে এবং এখানে কোনো চাঁদাবাজ বা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী থাকতে পারবে না। এ বিষয়ে র্যাব দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। এদিকে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির ঘটনাগুলোর সঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ডের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।