ঈদের ছুটিতে গাজীপুর ছাড়ছেন ঘরমুখী মানুষ

শুরু হয়েছে ঈদের ছুটি। ইতোমধ্যে ঈদকে কেন্দ্র করে সরকার টানা সাতদিনের ছুটি ঘোষণা করেছেন। এই ছুটিতে রাজধানী ঢাকার মতো গাজীপুর ছাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে গাজীপুরের চন্দ্রা ও ব্যস্ততম চন্দনা চৌরাস্তা এলাকায় দেখা গেছে যাত্রীদের ভিড়। সোমবার (১৬ মার্চ) সরকারি অফিসগুলোতে ৭ দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়ে যাওয়ার পর বিকেল থেকেই যাত্রীদের গন্তব্যে যাওয়ার ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, অনেকেই গণপরিবহণে আবার অনেকেই ব্যক্তিগত যানবাহনে করে গন্তব্যের দিকে যাত্রা শুরু করেন। এছাড়া গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলো ধাপে ধাপে ছুটি হওয়ায় মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ অনেকটাই কম। উত্তরাঞ্চলের ২৬ জেলার প্রবেশপথ চন্দ্রা বাস টার্মিনাল থেকে একের পর এক দূরপাল্লার যানবাহন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাচ্ছে। এদিকে চন্দ্রা বাস টার্মিনালে থাকা কাউন্টারগুলোতে টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকায় বেশিরভাগ যাত্রীরা দরদাম করে বাসে উঠছেন। যাত্রীদের কেউ কেউ বেশি ভাড়ার অভিযোগ আনলেও বাস চালকরা তা অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিকরা জানান, অন্য সময়ে তারা নির্ধারিত ভাড়া চাইতেও কম হারায় লোক পরিবহন করতেন। ঈদকে সামনে রেখে ভাড়া কম নেওয়া হয় না। তাই অনেকে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করছেন বলেও জানান তিনি। চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এলাকার হানিফ পরিবহণ বাস কাউন্টার মালিক আব্দুল মান্নান বলেন, এবছর ঈদে চন্দ্রা এলাকার সব কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে আগাম টিকিট কেটে যাত্রীরা বাসে উঠে যাচ্ছে। যার ফলে চন্দ্রা বাস টার্মিনালে আগের মতো ভোগান্তি থাকার সম্ভাবনা নেই। শ্যামলী পরিবহনের চালক রহমত আলী আকন্দ বলেন, ঈদের দুই একদিন আগে যেনো বড় ধরণের ভোগান্তি না হয় তার জন্য আগেই মানুষজন চলে যাচ্ছে। আমরা আজ থেকেই ঈদের যাত্রী বহন শুরু করেছি। গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত আসতেই বাস ভরে গেছে। সব স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। রংপুরগামী যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আগে আগেই চলে যাচ্ছি। অনেকটাই আরামদায়কভাবে গড়িতে উঠেছি। ভালো সিট পেয়েছি, টাকা একটু বেশি হলেও ভোগান্তি অনেক কম হচ্ছে। ভোগড়া বাইপাস এলাকার পেয়ারা বাগান কাউন্টারে দেখা গেছে, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, নাটোর, নওগাঁ, লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর যাত্রীরা এখানে ভোর থেকেই ভিড় করছেন। মুহূর্তের মধ্যেই যাত্রীবাহী বাসগুলো যাত্রীতে পরিপূর্ণ হয়ে উত্তরাঞ্চলের দিকে যাত্রা শুরু করে দিচ্ছেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পরিদর্শক ট্রাফিক তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবক ও কাজ করছেন। যানজট তৈরি হওয়ার মত কোন পরিস্থিতি এখনো পর্যন্ত হয়নি। মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপনে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথকে সহজ করার জন্য আমরা কাজ করছি। আশা করছি কোন প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই তারা গন্তব্যে যেতে পারবেন। নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাউগাতুল আলম বলেন, এ বছর ঈদ যাত্রা নিরাপদ করতে ইতোমধ্যেই আমাদের অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একাধিক কন্ট্রোল টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে নজরদারি রাখা হচ্ছে। সড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, ভাড়া নৈরাজ্যতা বন্ধের পাশাপাশি নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতে আমরা তিন শতাধিক পুলিশ কাজ করছি। মো. আমিনুল ইসলাম/এনএইচআর/এএসএম