জাপানে ধর্মীয় সহাবস্থানের প্রতীক টোকিও কামি মসজিদ

জাপানে মুসলিম সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও ধর্মীয় সহাবস্থানের এক অনন্য উদাহরণ দেখা যায় টোকিওর শিনজুকু এলাকায় অবস্থিত টোকিও কামি মসজিদে। অটোম্যান স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই মসজিদটি শুধু প্রার্থনার স্থানই নয়, বরং ইসলামি সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং আন্তধর্মীয় সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।টোকিও’র শিনজুকু এলাকায় অবস্থিত টোকিও কামি এবং দিয়ানেত তার্কিশ কালচারার কেন্দ্র। এটি জাপানের সবচেয়ে বড় মসজিদগুলোর ভিতর একটি। ১৯৩০-এর দশকে রাশিয়ার তাতার মুসলিমরা এখানে প্রথম মসজিদ নির্মাণ করেন। সময়ের সাথে সাথে পুরানো ভবনটি দুর্বল হয়ে পড়লে সেটি ভেঙে ফেলা হয় এবং তুরস্ক সরকারের সহায়তায় নতুন করে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। ২০০০ সালে পুনর্নির্মাণের পর থেকে এটি জাপানে বসবাসকারী মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী তুর্কি অটোমান ধাঁচে নির্মিত। বিশাল গম্বুজ, সুউচ্চ মিনার এবং মার্বেলের সূক্ষ্ম কারুকাজ এই মসজিদটিকে করে তুলেছে অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। ভেতরের দেয়াল ও ছাদজুড়ে রয়েছে আরবি ক্যালিগ্রাফি ও জ্যামিতিক নকশা। যা ইসলামী শিল্পকলার এক অনন্য উদাহরণ তুলে ধরে। এই কারণে ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি এটি টোকিওর একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান হিসেবেও পরিচিত। আরও পড়ুন: পাহাড়-নদী ঘেঁষা সবুজঘেরা মসজিদটি চোখ জুড়ায় সবার তবে অমুসলিম কোনো নারী ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে সম্মান প্রদর্শণপূর্বক মসজিদ থেকে সরবরাহকৃত বোরকা ও হিজাব পরিধান করতে হয়। পবিত্র রমজান মাসে এই মসজিদে প্রতিদিন শত শত মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত অমুসলিম অতিথিদের খাবার পরিবেশন করা হয়। প্রতিদিন প্রায় সাতশ মুসলিম ও একশ অমুসলিম অতিথির জন্য এখানে ইফতারের আয়োজন করা হয়। আরও পড়ুন: রহস্যঘেরা ‘মেদিগঞ্জ মসজিদ’, অন্ধকার নামলেই জিনের কান্না! একজন মুসল্লি বলেন, আমরা প্রতিদিন এখানে শতাধিক অমুসলিম এবং প্রায় সাতশ মুসলিমের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করে থাকি। আমার কাছে এটি শুধু একটি মসজিদ নয়, বরং সবার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চার স্থান। ভবিষ্যতে আমরা ধীরে ধীরে এর কার্যক্রম ও পরিসর আরও বাড়াতে চাই। এর উন্নয়ন, আয়োজন এবং কার্যক্রমের ব্যাপ্তি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। মসজিদ কমপ্লেক্সের সাথে রয়েছে একটি তুর্কি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এখানে ইসলামিক শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সেমিনারের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি রয়েছে লাইব্রেরি, তুর্কি ঐতিহাসিক শিল্পকর্মের আর্ট গ্যালারি এবং হালাল খাদ্যপণ্যের দোকান। ফলে এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং জাপানে ইসলামিক ও তুর্কি সংস্কৃতি পরিচিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।