প্রধানমন্ত্রী মহানগর নিয়ে খুবই সিরিয়াস বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। সাক্ষাৎ শেষে ডিএসসিসি প্রশাসক এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, স্থানীয়ভাবে যানবাহন উৎপাদন এবং ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। সাক্ষাৎ শেষে ডিএসসিসি প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী মহানগর (ঢাকা) নিয়ে খুবই সিরিয়াস। তিনি সবসময় ওনার নলেজে রাখতে চান যে আমরা কী কাজ করছি, কোথায় কী কাজ বাকি আছে এবং কোথায় কী কাজ করতে হবে। সেই ব্যাপারে আপনারা তো শুনেছেন যে উনি এরই মধ্যে আমাদের দুজনকে মহানগরের দায়িত্ব দেওয়ার পর আগে যে শহরের অবস্থা ছিল, তার চেয়ে তো কিছুটা হলেও উন্নতি হয়েছে, বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো সরকারপ্রধান এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দিন-রাত যারা কাজ করে, তাদের জন্য ঈদের উপহার দিয়েছেন, বোনাস দিয়েছেন। সেটা আমরা আজ দিয়েছি। কর্মচারীরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়েছেন, ধন্যবাদটা আমরা ওনাকে পৌঁছে দিয়েছি। আব্দুস সালাম বলেন, উনি (প্রধানমন্ত্রী) বললেন, এতে আমি খুশি না, যতটুকু হয়েছে আরও আরও কাজ করতে হবে। যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, খাল-নর্দমা যা আছে এগুলোকে আরও কীভাবে আধুনিকীকরণ করা যায়, এসব বিষয়ে উনি দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে ইনশাআল্লাহ এসব বিষয়ে আরও কাজ হবে। আরও পড়ুনজাতীয় ঈদগাহে ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়বেন: ডিএসসিসি প্রশাসকপ্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ: এক অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞকথা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দিলেন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ‘প্রধানমন্ত্রী যেটা চান, যে বিদেশ থেকে আমরা কেন আমদানিনির্ভর হবো? আমাদের এখানে লোকাল যারা আমাদের স্টুডেন্ট আছে, আমাদের ইঞ্জিনিয়াররা আছেন, এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মহানগরকে ক্লিন করার জন্য যেসব ভেহিকল (যানবাহন) দরকার, ডাম্পিং ট্রাক দরকার, সেগুলোর ব্যাপারে ওনারা কতটুকু সাহায্য করতে পারবেন, লোকালি বানিয়ে দিতে পারবেন কি না—এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী খুবই সিরিয়াস।’ ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, উনি (প্রধানমন্ত্রী) লোকালটা চান, যে লোকাল স্পেয়ার পার্টস বা লোকাল ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করবেন। আমরা আমদানি নির্ভর না হয়ে আমাদের দেশের ওপর নির্ভর হতে চাই, এটাই ওনার ইচ্ছা। ঈদ কেন্দ্রিক কোনো নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন কি না- জানতে চাইলে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঈদ কেন্দ্রিক নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিয়েছেন, যেটা নিয়ে আমরা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়ররা সঙ্গে সঙ্গে আমরা দুই-তিনটা মিটিং করে ফেলেছি। ঈদের সময় যারা শহর ছেড়ে যাবে, তারা যেন নির্বিঘ্নে যেতে পারে, সেজন্য বিভিন্ন বাস টার্মিনাল যেখানে আছে, সেখানে রাস্তাঘাটগুলো কিছুটা সংস্কার করে দিয়েছি, যেন তাড়াতাড়ি যাতায়াত করা যায়। প্রধানমন্ত্রী প্রতি সপ্তাহে আমাদের কাছে জানতে চান যে তোমাদের এই প্রজেক্টগুলো কি বাস্তবায়ন করেছো? সেই ধারাবাহিকতায় আজ আমাদের এখানে আসা। মশার উপদ্রব তো এখন একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, সেক্ষেত্রে আপনাদের কী পরিকল্পনা- জানতে চাইলে উত্তর সিটির মেয়র বলেন, মশা নিয়ে কাজ করতে গেলে একটু সময় লাগে। এরই মধ্যে আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তা সবাই বলছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত মনিটরিং করার। তিনি বলেন, অলরেডি আমরা উত্তর সিটি করপোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, এটি তদারকির জন্য একটা কমিটি করে দিয়েছি। তারা দেখবে ঠিকভাবে কাজ করছে কি না। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সংখ্যা আমাদের উত্তর সিটি করপোরেশনে যা আছে, তা দিয়ে কাজ করা খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের লোকাল ওয়ার্ড প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার জন্য সহযোগিতা করছি। ‘মশা নিধনে আমরা আগেও বলেছি, মশা শুধু ওষুধ দিয়ে নিধন করা যায় না। ওষুধের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফলে যেসব খাল, নর্দমা এবং ড্রেন—সেগুলো পরিষ্কার করার অভিযান আমরা ক্র্যাশ প্রোগ্রাম দিয়েছি। এরই মধ্যে আমরা অনেকগুলো খাল এবং নর্দমা পরিষ্কার করেছি। এটা চলমান থাকবে।’ শফিকুল ইসলাম খান বলেন, অনেক জায়গায় খালগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে গেছে, সেটাকে আমরা খনন করার ব্যবস্থা দিয়েছি এবং পরিকল্পনামতো যেন দ্রুতই আগামী বর্ষার আগেই আমরা মোটামুটি শতভাগ না হলেও তার কাছাকাছি যেতে পারি। ‘ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব, এটা আমাদের করতেই হবে।’ যোগ করেন এ প্রশাসক। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ও ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার উন্নয়নে কাজ করবে বুয়েট নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ও ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার উন্নয়নে কারিগরি সহায়তা দিতে কাজ করছে বুয়েট। এ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সচিবালয়ে বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এহসান সাংবাদিকদের জানান, বর্জ্য অপসারণে স্বয়ংক্রিয় (অটোমেশন) ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, বুয়েট উদ্ভাবিত ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার বাস্তবায়ন এবং দেশেই প্রয়োজন অনুযায়ী যন্ত্রপাতি উন্নয়নের বিষয়েও কাজ চলছে। তবে এখনো কোনো সময়সীমা নির্ধারণ হয়নি। আরএমএম/ইএ