আবরারকে দলে নেয়া মানে ভারতীয়দের মৃত্যুতে অবদান রাখা: গাভাস্কার

ভারতের কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার বলেছেন, দ্য হান্ড্রেডের ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি সানরাইজার্স লিডসের দলে পাকিস্তানি স্পিনার আবরার আহমেদকে নেওয়া 'পরোক্ষভাবে ভারতীয় সৈনিক ও বেসামরিক মানুষের মৃত্যুতে অবদান রাখা'।গত সপ্তাহে দ্য হান্ড্রেডের নিলামে আবরারকে দলে নেওয়ার পর এটিই সবচেয়ে গুরুতর সমালোচনা।সানরাইজার্স লিডসের মালিক সান গ্রুপ, যারা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি সানরাইজার্স হায়দরাবাদেরও মালিক। ২০০৯ সাল থেকে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আইপিএলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ রয়েছে।আবরারকে দলে নিয়ে সানরাইজার্স দেখিয়েছে যে, আইপিএলের সঙ্গে যুক্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের এড়িয়ে যাবে, এমন ধারণা সবসময় সত্য নয়।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এমন একটা সময়েই ভারতীয় পত্রিকা মিডডে'তে গাভাস্কারের একটি কলাম প্রকাশিত হলো।গাভাস্কার বলেন, 'দ্য হান্ড্রেডে ভারতীয় মালিকানাধীন একটি দল পাকিস্তানি খেলোয়াড় নেওয়ায় যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা অস্বাভাবিক নয়।' আরও পড়ুন: মোস্তাফিজের চোট কতটা গুরুতর, যা জানা গেলতিনি আরও বলেন, '২০০৮ সালের নভেম্বরের মুম্বাই অ্যাটাকের পর থেকে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের উপেক্ষা করে আসছে।'তার মতে, পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের দেওয়া পারিশ্রমিক থেকে যে কর তাদের সরকার পায়, তা অস্ত্র কেনায় ব্যবহৃত হতে পারে এবং সেটি পরোক্ষভাবে ভারতীয়দের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই উপলব্ধির কারণেই ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পাকিস্তানি শিল্পী ও ক্রীড়াবিদদের নিয়ে ভাবতে অনীহা দেখাচ্ছে।এই বিষয়ে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলশ ক্রিকেট বোর্ড  কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।গত বছরের এপ্রিলে কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সামরিক সংঘর্ষ হয়, যা দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্ককে আরও খারাপ করে তোলে।দুই দেশ ২০০৭ সালের পর আর কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেনি এবং এখন এমন নীতি অনুসরণ করছে যেখানে একে অপরের দেশে আয়োজিত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ভ্রমণ এড়িয়ে চলে। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়দের মধ্যে করমর্দন না করার ঘটনাও দেখা গেছে।আবরারকে দলে নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সানরাইজার্স লিডসের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। দলের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট শুক্রবার সাময়িকভাবে স্থগিত হয়, যদিও ধারণা করা হচ্ছে এটি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে হয়েছে।তবে ভারতীয় ক্রিকেট মহলের ভেতরে অনেকে মনে করছেন, এই প্রতিক্রিয়া মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং আইপিএলের নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।সুনীল গাভাস্কারের মতো ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের হস্তক্ষেপ দেখায়, এই বিষয়টি নিয়ে কিছু মহলে কতটা তীব্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।৭৬ বছর বয়সী গাভাস্কারই প্রথম ক্রিকেটার যিনি টেস্ট ক্রিকেটে ১০,০০০ রান পূর্ণ করেছিলেন। এছাড়া তিনি সেই ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন, যারা ১৯৮৩ সালে বিশ্বকাপ ফাইনালে শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেছিল।১৯৮৭ সালে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার পর তিনি মিডিয়ায় স্পষ্টভাষী বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিতি পান এবং বিবিসি'র টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে কাজ করেছেন। আরও পড়ুন: নিউজিল্যান্ড সিরিজে কি থাকবেন সাকিব, কী বলছে বিসিবি?সান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা কালানিধি মারান। তার মেয়ে কাব্য মারান দ্য হান্ড্রেড নিলামে উপস্থিত ছিলেন এবং আবরার আহমেদকে দলে নিতে বিডিং পরিচালনা করেন।নিলামের পর সানরাইজার্স লিডের প্রধান কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টরি জানান, নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়কে এড়িয়ে চলার নির্দেশনা তাকে দেওয়া হয়নি।গাভাস্কারের সমালোচনা মূলত সানরাইজার্সের মালিকপক্ষ ও ভেট্টোরিকে ঘিরেই ছিল। তিনি বলেন, 'মালিক যদি ভারতীয় হন, তাহলে অর্থ যেখান থেকেই দেওয়া হোক না কেন, তা শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে জড়িত, এটা খুবই সহজ বিষয়।'তিনি আরও বলেন, ভেট্টোরি হয়তো পুরো পরিস্থিতি বুঝতে পারেননি, তবে ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকদের এই সিদ্ধান্ত নিরুৎসাহিত করা উচিত ছিল।সানরাইজার্স হায়দরাবাদ আইপিএলের নতুন মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে ২৮ মার্চ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর  বিপক্ষে খেলবে।গাভাস্কার বলেন, 'এখনও সময় আছে ভুল সংশোধন করার, আশা করি বিচক্ষণ সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য পাবে।'ফেব্রুয়ারিতে সূত্রগুলো জানায়, আইপিএল–সংযুক্ত চারটি দ্য হান্ড্রেড ফ্র্যাঞ্চাইজি পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের দলে না নেওয়ার কথা ভাবছিল।এরপর ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলশ ক্রিকেট বোর্ড  আটটি দলকে চিঠি দিয়ে বৈষম্যবিরোধী দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পরে বোর্ড ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যৌথভাবে জানায়, 'জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া যাবে না।'নারীদের দ্য হান্ড্রেড নিলামে পাকিস্তানের দুই খেলোয়াড় ফাতিমা সানা ও সাদিয়া ইকবালঅংশ নিয়েছিলেন।পুরুষদের নিলামে থাকা পাঁচজন পাকিস্তানি খেলোয়াড়ের মধ্যে তিনজন অবিক্রীত থাকেন। উসমান তারিক বার্মিংহাম ফিনিক্সে যোগ দিয়েছেন এবং তিনি আবরারের সঙ্গে জুলাইয়ে শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে খেলবেন।