সুখে থাকবেন এমন আশায় নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে অল্প বয়সে মেয়েকে ভারতে বিয়ে দিয়েছিলেন পিরোজপুরের এক দম্পতি। কিন্তু বিয়ের মাত্র আট বছরের মাথায় ভারতের একটি রেললাইনে মিলেছে ওই বাংলাদেশি গৃহবধূর বিকৃত ও খণ্ডিত মরদেহ। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ রেললাইনে ফেলে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।নিহত ওই গৃহবধূর নাম অদিতি সরকার ওরফে তিথি (২৫)। তিনি পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের প্রদীপ রায় ও আরতী রায় দম্পতির মেয়ে। গত বুধবার (৪ মার্চ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাকদহ পালপাড়া রেললাইনে অদিতির মরদেহ পাওয়া যায়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে কল্যাণ নামে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে অরিন্দম সরকারের সাথে ভারতে বিয়ে হয় অদিতির। তাদের ঘরে ছয় বছর বয়সি দিব্য সরকার নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। প্রায় ১১ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে পরিবারসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চাকদহ পালপাড়ায় স্থায়ী হয়েছিল অরিন্দমের পরিবার। সেখানে স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার সাথে তাদের বেশ ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। পেশায় ইউটিউবার অরিন্দমের একটি ইউটিউব চ্যানেলই তার উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম। অদিতির মা আরতী রায় জানান, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে হাসিখুশিভাবেই অদিতির সাথে তার ফোনে কথা হয়েছিল। কিন্তু বিকেলে একাধিকবার ফোন করার পরও কেউ রিসিভ না করায় আর কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে ভারতে অবস্থানরত তাদের আরেক আত্মীয়ের মাধ্যমে শ্বশুরবাড়িতে খোঁজ নিলে তারা জানায়, অদিতি ঘর থেকে স্বর্ণালংকার নিয়ে এক ব্যক্তির সাথে পালিয়ে গেছে। এর ঠিক পরের দিনই বাড়ির কাছে পালপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে অদিতির কাটা পড়া মরদেহ পাওয়া যায়। আরও পড়ুন: প্যারোলে মুক্তি নিয়ে হাতকড়া পরেই বাবার জানাজায় ছেলে আরতী রায়ের অভিযোগ, অদিতির শাশুড়ি তপতী সরকার ও স্বামী অরিন্দম সরকারসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা শারীরিক ও মানসিকভাবে তার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালাত। এরই ধারাবাহিকতায় তারা পরিকল্পিতভাবে অদিতিকে হত্যা করে মরদেহটি রেললাইনে ফেলে রেখেছে। প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার সাথে অরিন্দমের ঘনিষ্ঠতার কারণে স্থানীয় থানা পুলিশও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে দাবি তার। নিহতের মা আরও জানান, অরিন্দমের আগেও একটি বিয়ে ছিল, তবে বিয়ের সময় সেটি তাদের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল। এছাড়া বাংলাদেশের বাগেরহাটের ফকিরহাটে থাকাকালীন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে অরিন্দমের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছিল। এরপরই সে পালিয়ে ভারতে চলে যায়। ভারতে অরিন্দমের এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবেশীদের সাথে অদিতির খুব সুসম্পর্ক ছিল। তাই কেউই তার মৃত্যুর বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। তারা এই মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করলেও অদিতির সেখানে কোনো নিকটাত্মীয় না থাকায় পুলিশ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ অবস্থায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অদিতির মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা।