খার্গ দ্বীপে তেল রফতানি কার্যক্রম বন্ধ হয়নি, দাবি ইরানের

মার্কিন হামলা সত্ত্বেও খার্গ দ্বীপে মানুষের জীবনযাত্রা ‘স্বাভাবিক’ নিয়মেই চলছে। তেল রফতানিও কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। এমনটাই দাবি ইরানি কর্মকর্তাদের। গত সপ্তাহে ইরানের তেল রফতানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপটিতে বড় ধরনের হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। খবর আল জাজিরার।ইরানের সংসদীয় শক্তি কমিটির একজন মুখপাত্র বলেছেন যে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরেও খার্গ দ্বীপে ‘স্বাভাবিক’ জীবনযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত মন্তব্য অনুযায়ী, কমিটির মুখপাত্র জানান যে, দ্বীপে তেল প্রক্রিয়াকরণ কর্মীরা ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে যাতে তেলের রফতানি কোনওভাবে ব্যাহত না হয়। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যদি শত্রুরা খার্গ দ্বীপে আক্রমণ করার পরিকল্পনা করে, তাদের জেনে রাখা উচিৎ যে, হরমুজ প্রণালীতে তারা যে লজ্জার সম্মুখীন হয়েছে, তার চেয়েও বড় লজ্জা তাদের জন্য অপেক্ষা করছে।’ গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। একইসঙ্গে হুমকি দেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল না করতে দেয়, তবে দ্বীপটির তেল অবকাঠামোতেও আবারও হামলা চালানো হবে। আরও পড়ুন: হত্যার দাবির পরই লারিজানির এক্স অ্যাকাউন্টে হাতে লেখা বার্তা খার্গ দ্বীপ হলো ইরানের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র। দেশটির অপরিশোধিত তেল রফতানির ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ২০২৫ সালে দ্বীপটি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৫ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১৭ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি হয়েছে। এটি ইরানের জ্বালানি ব্যবস্থার একটি মূল উপাদান এবং সরকারি রাজস্বের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করে। এতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হন। এর জেরে গত ১ মার্চ থেকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। যা বিশ্ব বাজার ও বিমান চলাচলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইসরাইলের পাশাপাশি জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। তেহরানের দাবি, তারা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং কিছু বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরও পড়ুন: আল জাজিরার এক্সপ্লেইনার / কেশম দ্বীপ: ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র দুর্গ ও ভূতাত্ত্বিক বিস্ময়