মুক্তি পনের দাবিতে সুন্দরবনের বনদস্যু ‘নানা ভাই’ বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ৬ জেলেকে উদ্ধার করেছে মোংলা কোস্টগার্ড।মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকালে কোস্টগার্ড পশ্চিমজোন এর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কোস্টগার্ড পশ্চিমজোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম। গত ৭ মার্চ সকালে বনের চাদঁপাই রেঞ্জের একটি খালে মাছ ধরতে গেলে বনদস্যুরা মোটা অংকের মুক্তিপণের দাবিতে তাদের অপহরণ করে। কোস্ট গার্ড জানায়, গত ৭ মার্চ একটি নৌকায় করে ফরেষ্ট অফিস থেকে পাশ পারমিট নিয়ে ৬ জেলে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যায় জেলেরা। ওই দিন রাতেই তাদের মোটা অংকের মুক্তিপণের দাবিতে বনদস্যু ‘নানা ভাই’ বাহিনীর সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে যায়। এবং জিম্মি করে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে মারধর ও নির্যাতন করছিল বলে জানায় উদ্ধার হওয়া জেলেরা। পরবর্তীতে কবির নামে এক ব্যক্তি তার ভাইকে গত ১০ দিন ধরে মুক্তিপণের দাবিতে জিম্মি রেখেছে বলে কোস্টগার্ডের জরুরি সেবা ১৬১১১ নম্বরে জানান।সেই তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে (১৭ মার্চ) মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে কোস্ট গার্ড নলিয়ান সুন্দরবনে শিবসা নদী সংলগ্ন কালির খাল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। এসময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি বুঝতে পেরে দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা ৬ জেলেকে ফেলে রেখে বনের গহীনে পালিয়ে যায়। উদ্ধারকৃত জেলেরা হচ্ছে-রফিকুল (৩০), আলামিন (২৬) ও ইসমাঈল শানা (২৪) খুলনা জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা এবং রমজান আলী (৩৬), রেজওয়ান (২২) ও মিয়া রাজ (১৮) সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তবে এসময় বনদস্যুরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হওয়া জেলেদেরকে মঙ্গলবার রাতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান কোস্টগার্ড পশ্চিমজোন’র এ কর্মকর্তা। আরও পড়ুন: পরিবারের ৮ সদস্যকে নিয়ে একসঙ্গে চিরঘুমে বাড়ির অভিভাবক রাজ্জাককোস্ট গার্ড জাহাজ বিসিজিএস তৌফিক’র নির্বাহী কর্মকর্তা লে. কমান্ডার আশিকুল ইসলাম ইমন জানান, গত ২০২৪ সারের ৫ আগস্টের পর নতুন করে সুন্দরবনের বন ও জলদস্যুদের প্রবণতা বেড়ে যায়। ফলে সাগর ও সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া বহু জেলেকে মুক্তিপণের দাবি অপহরণ, মারধর ও অত্যাচার নির্যাতন করে আসছিল দস্যুরা। ওই সময় থেকে এ পর্যন্ত অপহৃত ৭৩ জেলেকে উদ্ধার ও অস্ত্র এবং গোলাবারুদসহ ৭২ বনদস্যুকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সদস্যরা। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে জানায় কোস্ট গার্ডের এ কর্মকর্তা।