প্রবাসীদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে কাজ করছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং সেখানে তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে যেকোনো মূল্যে এই যুদ্ধাবস্থার অবসান চেয়ে কূটনৈতিক ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের সিংহপ্রতাপ গ্রামে এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইমামুল হোসেন তারা মিয়ার বাড়িতে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক প্রবাসী মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছেন। এখন যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, তাতে করে প্রবাসীরা অনেক কষ্টের মধ্যে আছেন। কূটনৈতিক ও পররাষ্ট্র নীতির মাধ্যমে আমরা যেন তাদের সুস্থভাবে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারি এবং যারা সেখানে রয়েছেন তারা যেন নিরাপদে থাকতে পারেন, সরকার সেটি দেখছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা যারা কষ্টের মধ্যে সেখানে রয়েছেন, তাদের যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেটাও আমাদের দায়িত্বের একটি অংশ।’ আরও পড়ুন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে রুশ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ ইফতার মাহফিল থেকে প্রবাসীদের সুস্থতা কামনা করে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের একটাই কথা, আমরা যেকোনো অবস্থায়, যেকোনো মূল্যে যুদ্ধাবস্থার অবসান চাই। এই বৈশ্বিক সমস্যার একটাই সমাধান, আর তা হচ্ছে কূটনীতি (ডিপ্লোমেসি) এবং আলোচনা। এই যুদ্ধাবস্থায় কোনো দেশের, কোনো মানুষের ক্ষতি ছাড়া উপকার হওয়ার নয়। সুতরাং এই অবস্থা থেকে যেন আমরা তাড়াতাড়ি নিস্তার পাই, সেজন্য সবাই মিলে দোয়া করব।’ বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সরকার গঠনের পর মাস না পেরোতেই নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া ঘোষণা একে একে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেয়া শুরু হয়েছে, দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচিও শুরু হয়েছে। কৃষক কার্ডও দেয়া হবে। সরকার যে কথা বলে, তা করে দেখায়।’ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মিলেমিশে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে হবে। ধানের শীষে যারা ভোট দিয়েছেন, আর যারা দেননি আমি সবারই এমপি। আপনারা যারা নেতা রয়েছেন, তাদের মধ্যে কোনো বিভেদ দেখতে চাই না। কর্মীদের কারণে কোনো সমস্যা হয় না, সমস্যা হয় নেতাদের বিভেদের কারণে।’ তাই দলমত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। ইফতার মাহফিলে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ দুই সহস্রাধিক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।