তামাকের বিকল্প সূর্যমুখী চাষে নতুন সম্ভাবনা কৃষক দম্পতির

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় তামাক চাষের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে বিকল্প ফসল হিসেবে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকেরা। তামাকের তীব্র গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে পরিবেশবান্ধব কৃষির দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই। এমনই একজন উদ্যোক্তা দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের তারাবুনিয়া ব্লকের কৃষক উত্তম কুমার চাকমা দম্পতি। তাদের জমি তামাক চাষের জন্য বর্গা না দিয়ে নিজেই সূর্যমুখী চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন তিনি। বর্তমানে তার ৪০ শতক জমিতে দোল খাচ্ছে হলুদ রঙের সূর্যমুখী ফুল। একসময় এ জমি তামাক চাষের জন্য অন্যদের কাছে বর্গা দেওয়া হতো। উত্তম কুমার চাকমার স্ত্রী সোনালী চাকমা জানান, তামাক চাষে ব্যবহৃত কীটনাশক ও বিভিন্ন রাসায়নিক ওষুধের তীব্র গন্ধে পরিবার নিয়ে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়তো। বিশেষ করে শিশুদের জন্য তা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘তামাকের ওষুধের গন্ধে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ঘরে থাকা যেত না। অনেক সময় অসুস্থতার ঝুঁকিও তৈরি হতো। তাই এবার উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে আমরা নিজেরাই সূর্যমুখী চাষ শুরু করেছি।’ আরও পড়ুনশরীয়তপুরে ধনিয়া চাষে লাভের আশা  স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষের জন্য বেশ উপযোগী। কম খরচে এবং তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে এ ফসল উৎপাদন করা যায়। পাশাপাশি সূর্যমুখী তেল বাজারে চাহিদাসম্পন্ন হওয়ায় কৃষকেরা ভালো লাভের সম্ভাবনাও দেখতে পাচ্ছেন। কৃষক উত্তম কুমার চাকমা বলেন, ‘তামাক চাষের তুলনায় সূর্যমুখী চাষ অনেক ভালো। তামাকের কীটনাশক ও ওষুধের তীব্র গন্ধে পরিবার নিয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আরও বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ করতে চাই। এতে খরচ কম এবং লাভের সম্ভাবনাও বেশি।’ দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৪০ জন কৃষককে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সূর্যমুখীর বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। তামাকের বিকল্প ফসল হিসেবে সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। উত্তম কুমার চাকমাকেও এ কর্মসূচির আওতায় বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পাহাড়ি এলাকায় তামাকের পরিবর্তে লাভজনক ও পরিবেশবান্ধব ফসল হিসেবে সূর্যমুখী চাষের সম্ভাবনা আছে। সঠিক পরিচর্যা ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে এ ফসল কৃষকদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।’ প্রবীর সুমন/এসইউ