মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: হজযাত্রার ফ্লাইট সূচিতে প্রভাব পড়ার শঙ্কা!

বিশ্বের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশেও লিটারে প্রায় ১৭ টাকা বাড়ানো হয়েছে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে জ্বালানি সংকট হজ ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। তবে হজ এজেন্সি অব বাংলাদেশ (হাব) জানিয়েছে, জ্বালানির দাম বাড়লেও হজ যাত্রীদের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা নেই।এক মাস পরেই শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইট। সবকিছু ঠিক থাকলে এপ্রিলের ১৮ তারিখ থেকেই পবিত্র মক্কার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাবেন হজযাত্রীরা। ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতিও রয়েছে এয়ারলাইন্সগুলোর। তবে শঙ্কার কারণ মধ্যপ্রাচ্য সংকট। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরান সংক্রান্ত যুদ্ধে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রতিদিন শতশত ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। এতে জ্বালানি সরবরাহে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে নির্ধারিত সময়ের হজ ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। আরও পড়ুন: ডিজেল-এলএনজি ও জেট ফুয়েল নিয়ে আসছে জাহাজ, খালাসে বিশেষ টিম দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, আমরা ঠিকভাবে বলতে পারছি না আগামীকাল কি হবে, পরশু কি হবে তা জানি না। তবে হ্যাঁ, আমরা সবাই জানি যে আমরা একটি বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছি। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কেমন হবে, তাতে মানুষ ভ্রমণ করবে কি না, সেটা এখনও অনিশ্চিত। এরমধ্যেই অনেকেই ভ্রমণ বাতিল বা স্থগিত করছে। যদি এই যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত হয় তবুও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এবং ফ্রি ফ্লো ফিরে আসতে সময় লাগবে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন দেশের তেল শোধনাগারে হামলার কারণে বিশ্বে জ্বালানির দাম বাড়ছে। এর প্রভাব দেশের জেট ফুয়েলের দামেও দেখা দিয়েছে। বিশ্বে ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানির দামের সঙ্গে এরই মধ্যে দেশেও জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটারে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ১৭ টাকা ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ১১ সেন্ট বাড়িয়েছে বিইআরসি। হজ ফ্লাইটেও এর প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। কাজী ওয়াহিদুল আলম আরও বলেন, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট ঠিক না হলে, তেলের দাম যদি অনেক বেড়ে যায়, তারপর ওয়ার সারচার্জ আর ইন্স্যুরেন্স চার্জ বাড়ে, তাহলে আগে নির্ধারিত হজ টিকিটের দাম যে স্থির থাকবে, তা বলা যাবে না। যাত্রী যারা বুকিং করেছেন বা টাকা দিয়েছেন, তাদের জন্যও বিষয়টি অনিশ্চিত। আরও পড়ুন: জেট ফুয়েলের দামে বড় লাফ, লিটারে বাড়ল কত? বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মার্চ পর্যন্ত সংস্থার কাছে সরবরাহযোগ্য উড়োজাহাজের জ্বালানি মজুত ৪৭ হাজার ৪৪৫ মেট্রিক টন, যা দিয়ে চলবে ২৯ দিন। তবে তেল আমদানির পথ কিছুটা স্বাভাবিক থাকায় হজ এজেন্সি অব বাংলাদেশ (হাব) বিমান ভাড়া বাড়ার আশঙ্কা করছে না। হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, হরমুজ প্রণালিতে শুধুমাত্র ইসরাইলি ও মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজের ওপর সীমাবদ্ধতা থাকলেও বাকি জাহাজ চলাচল করছে। বিষয়টি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং তেলের কোনো সংকট বা বিমান ভাড়া বাড়ার কারণ নেই। চলমান প্রেক্ষাপটে হজ ফ্লাইট শিডিউল ঠিক থাকাসহ সময় সাময়িক ইস্যুতে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ধর্ম মন্ত্রণালয়।