প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় বুধবার (১৮ মার্চ) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। হিসাবি খরচেও অর্থনীতিতে গতি - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার শিরোনাম এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদে সব স্তরের মানুষই কমবেশি কেনাকাটা করে। ঈদুল ফিতর ঘিরে দেশের বাজারে কেনাকাটার উৎসব চললেও এবার ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের সতর্কতা ও হিসাবি মনোভাব দেখা যাচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকটের প্রভাবে পোশাক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাইরে বাড়তি খরচ কমিয়ে দিয়েছে অনেকে। অন্যদিকে কেনাকাটায় ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে স্থবির অর্থনীতিতে ‘হিসাবি’ কেনাকাটায় কিছুটা গতিসঞ্চার করেছে। আশার কথা হলো, প্রতিবছর তৃণমূলে ঈদের আনন্দে বাড়তি উৎসাহ জোগানো প্রবাসীদের আয়ে এবারও ঘাটতি হয়নি। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের মধ্যেও প্রবাসীরা পরিবারের কাছে টাকা পাঠিয়েছেন। মার্চের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে এসেছে ২২০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫.৭ শতাংশ বেশি।বাসাবাড়ি নিরাপদ রাখতে পুলিশের নিরাপত্তা ছক - দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদ এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রমজান শেষের পথে। দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। নাড়ির টানে তপ্ত কংক্রিটের রাজধানী ছাড়ছে লাখো মানুষ। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট-সবখানেই উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু রাজধানীর আবাসিক এলাকাগুলোর চিত্র ঠিক উলটো। অভিজাতপাড়া থেকে মধ্যবিত্তের আবাসন-সবই এখন প্রায় জনশূন্য। নির্জন অলিগলি আর খাঁ খাঁ করা ফ্ল্যাটবাড়িগুলো এই ঈদ আনন্দেই বয়ে আনতে পারে চরম বিষাদ। প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে এমন ফাঁকা ঢাকাই হয়ে ওঠে চোরচক্রের টার্গেট। মানুষ যখন গ্রামে ঈদ উৎসবের আমেজে ব্যস্ত, তখন তাদের ঢাকার ফ্ল্যাট কতটা নিরাপদ-সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আমদানিনির্ভর সারে নতুন চাপ - দৈনিক সমকালের প্রধান খবর এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে সার ও এর কাঁচামাল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইতোমধ্যে সারের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিতে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশও নতুন করে উদ্বেগের মুখে পড়েছে। দেশে বছরে প্রায় ৬০ লাখ টন বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয়। এর বড় অংশ আমদানি করতে হয়। গ্যাস সংকটে দেশের ছয়টি ইউরিয়া কারখানার মধ্যে পাঁচটি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ফলে দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক কি নতুন পথে? - দৈনিক মানবজমিনের প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরীর সাম্প্রতিক নয়াদিল্লি সফর আপাতদৃষ্টিতে একটি নিয়মিত নিরাপত্তা সংলাপের অংশ বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সফরের তাৎপর্য অনেক গভীর। এমন এক সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হলো, যখন গত দুই বছরের টানাপোড়েনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আবার নতুন করে গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে। অনেকের মতে, এটি হতে পারে দুই দেশের মধ্যে নীরব কূটনীতির মাধ্যমে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সূচনা। গত দুই দশকে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ায় তুলনামূলকভাবে একটি স্থিতিশীল ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময় দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে আঞ্চলিক সংযোগ বহু ক্ষেত্রেই দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করেছে।ঈদে ভোগাবে না বিদ্যুৎ, এপ্রিল নিয়ে আশঙ্কা - দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পবিত্র রমজান মাস বিবেচনায় চলতি মার্চে বিশেষ প্রচেষ্টায় লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখা গেলেও আগামী মাসে (এপ্রিল) গরম বাড়লে লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, এপ্রিলে গরম বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়বে। কিন্তু উৎপাদন সেই অনুপাতে বাড়বে কি না, তা নিশ্চিত নয়। চলতি মাসে সার কারখানাসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখার পরও গত সপ্তাহে সময়ে সময়ে ঘণ্টায় প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মালিকদের সংগঠন বলছে, সরকার সময়মতো বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় বেসরকারি কেন্দ্রগুলো জ্বালানি আমদানি করতে পারেনি। তাই এপ্রিল-মে মাসে পরিস্থিতি কী হবে, তা বুঝতে পারছে না তারা।