ঈদে বাড়ি ফেরা, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের টিপস

ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দের বড় একটি অংশ জুড়ে থাকে প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা করার জন্য ভ্রমণ। ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আনন্দের সঙ্গে আর কিছুর তুলনা চলে না। পথে নানা ঝক্কি থাকলেও প্রিয়জনের মুখ দেখার আশায় সবাই হাসিমুখে যাত্রা করেন। কেউ যান গ্রামের বাড়ি, কেউবা শহরের বাইরে ঘুরতে। তবে গন্তব্য যতই আনন্দের হোক, দীর্ঘ যাত্রায় কিছু শারীরিক অস্বস্তি বা ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই একটু সচেতন থাকলেই যাত্রা হতে পারে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ। আগেভাগে পরিকল্পনা করুনঈদের সময় সড়ক, রেল ও নৌপথ-সব ক্ষেত্রেই যাত্রীদের কয়েকগুণ চাপ বেড়ে যায়। তাই যাত্রার পরিকল্পনা আগে থেকেই করে রাখা সবচেয়ে ভালো। শেষ মুহূর্তে টিকিটের জন্য দৌড়ঝাঁপ করলে ভোগান্তি বাড়ে।আগেভাগেই টিকিট সংগ্রহ করুন এবং যাত্রার সময়, রুট ও যানবাহনের ধরন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখুন। সময় হাতে রেখে বের হনঈদের সময় যানজট স্বাভাবিক বিষয়। তাড়াহুড়া করে বের হলে মানসিক চাপ যেমন বাড়ে, তেমনি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে। তাই নির্ধারিত সময়ের অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন বা লঞ্চঘাটে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। পানি ও খাবারে সচেতনতা জরুরিভ্রমণের সময় অনেকেই পানি কম পান করেন, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে রোজা রেখে ভ্রমণ করলে যাত্রার আগে ও পরে শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করা জরুরি। চা-কফি কম খাওয়া ভালো। প্রিয়জনদের আপ্যায়নে নানা খাবার সামনে এলেও একবারে বেশি না খেয়ে পরিমিতভাবে খাওয়া উচিত। নিরাপত্তায় থাকুন সতর্কভ্রমণের সময় নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন। অপরিচিত কারো দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। নিজের ব্যাগ, টাকা-পয়সা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সব সময় নিজের কাছে রাখুন। ভিড়ের মধ্যে চোর-ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেশি থাকে, তাই সতর্ক থাকা জরুরি। সঠিক যানবাহন বেছে নিনযানবাহন বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও সচেতনতা প্রয়োজন। অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে এমন বাস বা ঝুঁকিপূর্ণ যান এড়িয়ে চলুন। চালকের আচরণ ও গাড়ির অবস্থা খেয়াল করুন। সম্ভব হলে নির্ভরযোগ্য পরিবহন ব্যবহার করুন। রাতে ভ্রমণে বাড়তি সতর্কতারাতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই দিনের বেলা যাত্রা করাই ভালো। তবে যদি রাতে যাত্রা করতে হয়, তাহলে নিরাপদ ও পরিচিত পরিবহন ব্যবহার করুন এবং পরিবারের কাউকে নিজের অবস্থান জানিয়ে রাখুন। সামান্য কিছু সচেতনতা ও প্রস্তুতিই আপনার ঈদের যাত্রাকে করে তুলতে পারে আরও নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও আনন্দময়। আরও পড়ুনজেন-জি কেন এক জায়গায় বেশি দিন কাজ করতে চায় না ভ্রমণে দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের যেসব নিয়ম মানা জরুরি  এসএকেওয়াই