পবিত্র রমজান মাস প্রায় শেষের দিকে। রমজানের শেষ দশক চলমান। অনেকেই রমজান মাস কাটিয়েছেন হেলায়-খেলায়। অনেকেই প্রশ্ন করেন, রমজানের শেষের দিকে কোন কোন আমল করা উত্তম হবে। যে যেভাবেই রমজান মাসে আমল করুক না কেন, রমজানের শেষের দিকে প্রত্যেকের জন্য নিচের আয়াতের উপর আমল করা উচিত।یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا تُوۡبُوۡۤا اِلَی اللّٰهِ تَوۡبَۃً نَّصُوۡحًا ؕ হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটিভাবে তাওবা কর (সূরা তাহরীম আয়াত ৮)মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, কেন রামাদানের শেষের দিকে বেশি বেশি তওবা-ইস্তিগফার করা উচিত । কারণ, রাসুলুল্লাহ বলেছেন, ঐ ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, যার জীবনে রামাদান মাস এল কিন্তু তাকে ক্ষমাপ্রাপ্ত না করেই তা অতিবাহিত হয়ে গেল। (জামে' তিরমিযী , হাদিস নং ৩৫৪৫) । অপর বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, "লাঞ্ছিত হোক সেই ব্যক্তি, যার কাছে রমাযান মাস আসে আবার তার গুনাহ ক্ষমার আগে সে মাস চলে যায়। (মিশকাত , হাদিস নং ৯২৭) পবিত্র রামাদান মাস এত বরকত ও কল্যাণের মাস, যে মাসে মাগফিরাত ও আল্লাহর রহমত বৃষ্টির ন্যায় বর্ষিত হতে থাকে। যে ব্যক্তির উপর রামাদানের মতো মুবারক মাস অতিবাহিত হয়ে যায় কিন্তু তার নিজের বদআমলী ও ত্রুটির কারণে গুনাহ মাফ হয় না, সে তো নিশ্চিত অপমানিত হবে। এই মাসে আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা অর্জন করা সবচেয়ে সহজ। এত সহজ সুযোগ পেয়েও যে এই মাসকে কাজে লাগাতে পারল না তার জন্য ধ্বংস ছাড়া আর কীইবা আছে ।আর মানুষের দ্বারা ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় অনেক গুনাহের কাজ সংঘটিত হয়ে থাকে। আরও পড়ুন: শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে কি জাকাত আদায় হয়? এজন্য , রামাদানের শেষের দিকে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত । এছাড়া, হাদিসে রামাদানের শেষ দশকের রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর তালাশ করার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে রামাদানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে । আর এই রাতগুলোতে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত । আম্মাজান হযরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা রাসুলুল্লাহ ﷺ কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যদি কদরের রাত সম্পর্কে জানতে পারি তাহলে এতে কী বলব? রাসুলুল্লাহ বললেন, বল, اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي ‘হে আল্লাহ, নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করাকে ভালোবাসেন, সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন। (জামে' তিরমিযী, হাদিস নং ৩৫১৩, সহীহ)এজন্য রামাদান মাসে যে সমস্ত আমল রয়েছে, যেমন সালাত, রোযা, তারাবীহ এইগুলো অত্যন্ত মনোযোগের সাথে আদায় করার পর স্বীয় গুনাহ হতে বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করা জরুরি ।