ইতালির রাজধানী রোমে ইতালীয় ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মানে এক বর্ণাঢ্য ইফতার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) ২৫ রমজান উপলক্ষে স্থানীয় ডমুস রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ ইমিগ্রান্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিমাস) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রথমবারের মতো ইতালির মূলধারার শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের এমন উপস্থিতিকে বাংলা কমিউনিটির জন্য একটি বড় অর্জন ও ধর্মীয় সহাবস্থানের মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিমাসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. মুক্তার হোসেন মার্কের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এটি এম রকিবুল হক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা: নিকোলা জিঙ্গারেত্তি: ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও সাবেক ডেমোক্রেটিক দলের সচিব। সিনেটর সিসিলিয়া ডি এলিয়া এবং রোম-১ এর সংসদ সদস্য পাওলো সিয়ানি। লাজিও ডেমোক্রেটিক পার্টির আঞ্চলিক কাউন্সিলর মারিও সারলা ও রোম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর এরিকা বাত্তালিয়া। নাফিস আহমেদ খান: এফএও (FAO) এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার। অনুষ্ঠানে ড. মুক্তার হোসেন মার্ক ইতালীয় রাজনৈতিক নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২২ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অনেক বাংলাদেশি ‘ফ্লসি’ বা স্পন্সর ভিসায় ইতালিতে আসলেও এখনো তাদের স্টে-পারমিট পাননি। তিনি বলেন, ‘বৈধ নুলা সস্তা এবং ভিসা থাকা সত্ত্বেও স্টে-পারমিট না পাওয়াটা আমাদের জন্য উদ্বেগের। আমরা সরকারের কাছে এর দ্রুত সমাধান চাই। আশা করি, রমজানের পর এ বিষয়ে আপনারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন।’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত এটি এম রকিবুল হক বলেন, ইতালিতে আড়াই লাখের বেশি বাংলাদেশি দুই দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি বিমাসের ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, ইতালির মোট অভিবাসীদের মধ্যে মুসলিমদের অবস্থান প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশিরা সামগ্রিকভাবে ষষ্ঠ অবস্থানে থাকলেও মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে তৃতীয় এবং দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। ইফতারে আসা ইতালীয় রাজনৈতিক নেতারা ইতালির আসন্ন সংবিধান সংস্কার রেফারেন্ডাম (২২ ও ২৩ তারিখ) নিয়ে আলোচনা করেন। যারা এরই মধ্যে ইতালির নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের ‘না’ ভোট দিয়ে সংবিধান সংস্কারে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান নেতারা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন ছাড়াও পাকিস্তান ও চীনের নাগরিকসহ কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন। পরিশেষে মুসলিম উম্মাহ ও বিশ্ব শান্তির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। এমআরএম