মশার কামড়ে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী, বর্ষায় পরিস্থিতি নাজুক হওয়ার শঙ্কা

নগরীর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে সিটি করপোরেশন থাকলেও প্রতি বছরই মশার কামড়ে অতিষ্ঠ থাকেন ঢাকার মানুষ। নতুন মেয়র, প্রশাসকও এসেছে, কিন্তু সমস্যার সমাধান এখনও হয়নি। কখনো কখনো প্রশ্ন হয়, মশক নিয়ন্ত্রণে কি বরাদ্দই নেই সিটি করপোরেশনের? খোঁজ নিয়ে জানা যায় বরাদ্দের পরিমাণ নিতান্তও নয়। তাহলে সমস্যা কোথায়?সামান্য জমে থাকা পানিতেই জন্ম নিচ্ছে লার্ভা। সিটি করপোরেশনের তেমন কোনো কার্যক্রম নেই এগুলো ধ্বংস করার। এতে ঢাকার দুই সিটির অলিগলি, ড্রেন ও ময়লা-আবর্জনায় জমে থাকা পানি মশার প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। দিন-রাত মশার কামড়ে অতিষ্ঠ নগরবাসী। এলাকাবাসীরা বলছেন, এই মশার কারণে ঘুমানো যায় না, খাবার খাওয়া যায় না। সামাদ নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘সন্ধ্যা হইলে সামলানো যায় না; হাত সামলাবেন তো মশা অন্য দিকে কামড়াবে। কামড় দিলে সঙ্গে সঙ্গে শরীরে গোটার মতো হয়ে যায়। সারা শরীর চুলকানিতে ভরে যায়।’ এতে দিনের আলোতেই মানুষকে মশারির ভেতরে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। মশার উৎপাত এতটাই বেড়েছে যে স্বস্তিতে একটু বিশ্রাম নিতেও ভরসা করতে হচ্ছে মশারির ওপর। এলাকাবাসী বলছেন, ঈদের ছুটিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। মশা নিধনে এখনই ব্যবস্থা না নিলে আসছে বর্ষা মৌসুমে উপদ্রব কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। আরও পড়ুন: ওষুধে নয়, জনসচেতনতায়ই ৫০ শতাংশ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব: শফিকুল ইসলাম ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নিয়মিত স্প্রে করার দাবি থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। স্থানীয়রা বলছেন, মানুষজন থাকে না, তখন মশা বাসা বাঁধে। বর্ষার সময় বাতাসে মশার পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে। আগে ওষুধ দিলেও; এখন দুই-তিন মাস ধরে দেয় না সিটি করপোরেশন। মশা মারার ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও দক্ষিণ সিটি দাবি করছে, ল্যাব টেস্টে সব ঠিক আছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান বলেন, ওষুধগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে, দুটো স্যাম্পলেরই কার্যকারিতা ১০০ শতাংশ। নিয়মিত মশার ওষুধ দেয়া হচ্ছে। কোথাও তিন থেকে চার দিন পর, আবার কোনো কোনো এলাকায় সাত দিন পর দেয়া হতে পারে; তবে মাসখানেক ধরে ওষুধ দেয়া হয়নি, এমন হয় না কখনও। মশা নিয়ন্ত্রণে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জ মনে করলেও কর্মীদের গাফিলতি মানতে নারাজ উত্তর সিটি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, মশার ব্রিডিং ও বেড়ে ওঠা জলবায়ু ও আবহাওয়ার উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। মশা নিয়ন্ত্রণে লগবুক সিস্টেম করা হয়েছে। বাড়িতে যখন স্প্রে করা হবে, বাড়িওয়ালা কাগজে সাইন করবেন। চলতি অর্থবছরে মশক নিধনে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দের মধ্যে উত্তর সিটি প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। দক্ষিণ সিটিতে ৫০ কোটি টাকার বরাদ্দের কত খরচ হয়েছে, তা প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানেন না।